বাংলাদেশে ফ্লোট গ্লাস উৎপাদনে এখন স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে। আমরা চাই, নির্মাণকাজে আরো বেশি গ্লাস ব্যবহার করা হবে। আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি স্মার্ট সিটি ও টেকসই নগরায়ণ কীভাবে তৈরি করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে। নির্মাণ খাতে গ্লাসের ব্যবহার আমাদের জন্য টেকসই পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা যত বেশি গ্লাস ব্যবহার করব, ভবনের ভেতরে তত বেশি প্রাকৃতিক আলো প্রবেশ করবে। ফলে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবহার কমবে এবং জ্বালানি সাশ্রয় হবে।
প্রযুক্তি আজ আমাদের নতুন ধরনের গ্লাস উৎপাদনে সহায়তা করছে। খুব শিগগিরই বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি কারখানায় লো-ই গ্লাস উৎপাদন শুরু হচ্ছে। এতদিন লো-ই গ্লাস আমরা মূলত আমদানি করতাম। পাশাপাশি সোলার গ্লাসসহ বিভিন্ন ধরনের আধুনিক গ্লাস এবং ইউরোপীয় প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি কারখানায় ডাবল-গ্লেজড গ্লাসও উৎপাদন হচ্ছে।
নির্মাণকাজে ডাবল-গ্লেজড গ্লাসের ব্যবহার বাড়ানো গেলে অবশ্যই বড় ধরনের জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব। এর মাধ্যমে ভবনের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। বাইরের গরম ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না এবং শীতকালে এর বিপরীতভাবে ভেতরের তাপ ধরে রাখা সম্ভব হবে। ফলে এয়ার কন্ডিশনিং ও হিটিং সিস্টেমে বড় ধরনের সাশ্রয় করা সম্ভব।
ঢাকা শহরের উচ্চ জনঘনত্ব আমাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা দেখছি, প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার মানুষ ঢাকায় মাইগ্রেট করছে। এর বার্ষিক সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখের বেশি। নতুন নগর পরিবেশের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
রিয়েল এস্টেট খাতের যারা আছেন, তারা তাদের সমস্যার কথা বলেছেন, কী ধরনের চ্যালেঞ্জ তারা মোকাবেলা করছেন, সেগুলো তুলে ধরেছেন। আমার একটি অনুরোধ থাকবে মন্ত্রী ও সরকারের প্রতি—ঢাকা শহরের প্রতি আমাদের মনোযোগ এত বেশি কেন? ঢাকার জনসংখ্যা কেন এত বাড়ছে? এ বিষয়টি আমাদের আরো গভীরভাবে চিন্তা করা দরকার।
আমাদের সমস্যার সমাধান করতে হলে ঢাকার গুরুত্ব ও চাপ কমিয়ে নগরায়ণকে আরো বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। যদি ঢাকার ওপর মনোযোগ কমিয়ে অন্য শহরগুলোর দিকে মনোযোগ বাড়াতে পারি এবং ঢাকার জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে পারি, তাহলে নগর ব্যবস্থাপনার সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে গ্লাস উৎপাদন নিয়ে কিছু কথা বলে শেষ করব। গ্লাস এমন একটি পণ্য, যা পুনর্ব্যবহারযোগ্য। গ্লাসের কোনো বর্জ্যই অপচয় করতে হবে না; এগুলো পুনর্ব্যবহার করা যায়। ফলে রিসাইক্লিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও উৎপাদন ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব। একই সঙ্গে নতুন কাঁচামাল ও আমদানি খরচও কমানো যায়।
অনেক নির্মাতা আধুনিক প্রযুক্তির গ্লাস উৎপাদন ও ব্যবহারে এগিয়ে আসছেন। আমরা গ্লাসের ব্যবহার বাড়াব। পাশাপাশি হাইরাইজ ভবন নির্মাণ বাড়াতে পারলে নগর এলাকার ভূমির সংকটও মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।










