কৃষকদের সার প্রাপ্তির সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে গতকাল রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রংপুর বিভাগীয় প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম।

কৃষি সচিব বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ে সারের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে দেশে ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কৃষকদের যুক্তিসংগত চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনে অতিরিক্ত সার সরবরাহ করা হবে।’

সারের নির্বিঘ্ন বিতরণ নিশ্চিত করতে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধ এবং লাইসেন্সবিহীন সার ব্যবসা বন্ধে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কোনো কৃষি কর্মকর্তা বা কর্মচারী অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান কৃষি সচিব।

সার ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রতি কেজি সারে কমিশন বাড়ানোর বিষয়টি মন্ত্রণালয় বিবেচনা করছে। সৎ ব্যবসায়ীদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে অসৎ ব্যবসায়ী ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কৃষি সচিব বলেন, ‘বর্তমান সরকার কৃষির আধুনিকীকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণ, কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কাজ করছে। একই সঙ্গে মাটির স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের সুষম সার ব্যবহারে উৎসাহিত করার জন্য ডিএইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

সভায় রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম সার বিতরণ ও বাজার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরো জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিবিজ্ঞানী ও ডিএই কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে আরো কার্যকরভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ, ডিলার পর্যায়ে সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং কৃত্রিম ঘাটতি ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি বন্ধে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ সময় বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ, র‌্যাব-১৩-এর কমান্ডিং অফিসার, বিজিবির রংপুর সেক্টর কমান্ডার, রংপুর বিভাগের আট জেলার পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ডিএই কর্মকর্তা, বিসিআইসি ও বিএডিসির প্রতিনিধি, সার ব্যবসায়ী এবং বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।