একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদেরকে দুবছরের মুনাফা না দেয়ার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা শরীয়াহসম্মতভাবে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

তিনি বলেন, ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো কোনো মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। ব্যাংকের শরিয়া কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমানতকারীদেরকে দুবছরের মুনাফা দেয়া হচ্ছে না। এর আগে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মুনাফা পুরোপুরি দেয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গভর্নর। তিনি বলেন, কোনো কোনো ব্যাংকের ৯৭ থেকে ৯৮ শতাংশ ঋণ খেলাপি থাকার পরও তারা গ্রাহকদেরকে কীভাবে মুনাফা দিয়েছে জানি না। এরপরও ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্ত হওয়া কোনো মুনাফা আমরা কেটে নিচ্ছি না। শুধুমাত্র গত দুবছরের মুনাফা দেয়া হচ্ছে না। ব্যাংকগুলো এ সময়ে কোনো মুনাফাই অর্জন করতে পারেনি, আমানতকারীদেরকে কোত্থেকে মুনাফা দিবে? ইসলামি অর্থায়নের রীতি-নীতি অনুযায়ীই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে গ্রাহকদের মূল আমানতে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না।

গভর্নর আরো বলেন, জমাকৃত আমানতের ওপর ২০২৬ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গ বাজার ভিত্তিক মুনাফা দেয়া হবে। গ্রাহকদেরকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের সুযোগ দেয়া হয়েছে। কারো যদি এর বেশি টাকা লাগে, তাহলে তিনি আমানতের বিপরীতে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।

পাঁচ ব্যাংক নিয়ে গঠিত নতুন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে বলেও জানান গভর্নর। তিনি বলেন, দুজন স্বতন্ত্র পরিচালক মনোনোয়নের বিষয় প্রায় চূড়ান্ত। তারা দুজনই ব্যাংকার। কিছু কারিগরি বিষয় আছে। সেগুলো নিশ্চিত হলেই তাদের নিয়োগ দেয়া হবে।

পাঁচ ব্যাংকে ফরেনসিক অডিটের কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন গভর্নর। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো থেকে কারা ঋণ নিল কিংবা দিল, সব বিষয়ে ফরেনসিক অডিট হচ্ছে। অডিট শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যারা এরইমধ্যে ‘‌ভূয়া’ অডিট করেছে, তাদেরকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে জানানো হয়েছে।