দেশে বর্তমানে পণ্যের মান নিয়ে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। মান সনদকে শুধু সাজিয়ে রাখার পণ্য হিসেবে রাখা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় দুর্বলতার সুযোগে মানসম্পন্ন পণ্য জনগণের হাতে পৌঁছানো কঠিন হচ্ছে। এ অবস্থায়, গুণগত মানকে আর বিলাসীতা নয়, বরং টিকে থাকার শর্ত হিসেবে গ্রহণ করে জাতীয়ভাবে মান সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

বিশ্ব গুণগত মান দিবস ২০২৫ উপলক্ষে রোববার (১৬ নভেম্বর) বিকালে ধানমন্ডির সোবহানবাগে অবস্থিত বাংলাদেশে ইন্সটিটিউত অব ম্যানেজমেন্টের অডিটরিয়ামে আয়োজিত সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। এ বছরের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য 'কোয়ালিটি: থিংক ডিফারেন্টলি'।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সার্টিফিকেশন বডিস (বিএসিবি) ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম ) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব (চলতি দায়িত্ব) ও বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক (অতি. দায়িত্ব) মো. নুরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ এক্রিডিটেশন বোর্ডের (বিএবি) মহাপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, সাউথ এশিয়ান রিজিওনাল স্টান্ডার্ড অর্গানাইজেশনের (সারসো) মহাপরিচালক শাহজাদ আফজাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সোসাইটি ফর টোটাল কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্টের উপদেষ্টা খায়রুল বাশার বলেন, গুণগত মান শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিষয় নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক পরিবর্তনেরও বিষয়। একসময় জীবন বাঁচানোর জন্য যে সংগ্রাম ছিল, আজকের বিশ্বে সেটি মানসম্পন্ন পণ্য এবং সেবা প্রদানের জন্য বিবর্তিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জাপান গুণগত মানকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্বব্যাপী এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়েছে, যা আমাদের দেশেও অনুসরণ করা উচিত। ভবিষ্যতের গ্রাহকের চাহিদা না বুঝলে গুণগত মানের পণ্য বা সেবা দেয়া সম্ভব হবে না। টেকনোলজির আগমনে বেকারত্ব বাড়ে না, বরং পণ্য বা সেবার মান অনেক বাড়ে। তবে মান সনদের ক্ষেত্রে আমাদের মনোভাব পরিষ্কার না থাকায় এটি অনেক ক্ষেত্রে 'ব্যবসা' হয়ে গেছে, যার ফলে সনদ পেয়েও পণ্য বা সেবার মান নিম্নমানের রয়ে গেছে।

বিএসিবি উপদেষ্টা লিয়াকত আলি বলেন, বাংলাদেশে এক্রিডিটেশন আরো গতিশীল করতে হবে। এমন কিছু তথ্য প্রদান করা যাবে না যা দেশের মান ক্ষুণ্ণ করে। বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে মানের ওপরে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

বিএসিবি’র মহাসচিব আহসান হাবিব বলেন, এটি যৌথ দায়িত্ব। যখন প্রতিষ্ঠানগুলো গুণগতমানে বিনিয়োগ করে তখন রফতানি সক্ষমতা, ভোক্তা আস্থা ও টেকসই প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে পুরো দেশ লাভবান হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুরুজ্জামান বলেন, দেশে মানের জগতে যে বিশৃঙ্খলা চলছে, তার জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। তিনি বলেন, আলোচনা, শুদ্ধ চিন্তা এবং কর্মে উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।