ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত সদস্য আদম ব্যবসায়ী আসিফ ইকবালের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে আটটি পরিবার। একটু সচ্ছলতা আনার জন্য বিদেশে পাড়ি দিয়ে চাকরি পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিল বেড়াশুলা গ্রামের কয়েকটি পরিবার। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আদম ব্যবসায়ী আসিফ ইকবাল অসহায় ওই পরিবারগুলোকে উচ্চবেতনের লোভ দেখিয়ে সৌদি আরব পাঠান কোম্পানির ভিসায়। সেখানে কাজ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
ভুক্তভোগী বেড়াশুলা গ্রামের লিয়াকত আলী মোবাইল ফোনে বলেন, সৌদি আরবে ভালো কোম্পানিতে চাকরি দেয়ার কথা বলে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নেন আসিফ ইকবাল। সাত মাস আগে ভিসা পেয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পর তাকে একটি হোটেলে রেখে নির্যাতন করা হয়। সেখানে তার কাছ থেকে পাসপোর্টসহ কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেয়া হয়। তারা টাকার জন্য মারধর-নির্যাতন করে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আরো ৩৫ হাজার টাকা দিতে হয় লিয়াকতের পরিবারকে।
লিয়াকত আলী বলেন, আমি এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছি। কোথাও কোনো কাজ করতে পারছি না। দেশেও ফিরতে পারছি না। এক বেলা খেতে পারছি তো দু-বেলা না খেয়ে আছি। আদম ব্যবসায়ী আসিফ ইকবাল এ চক্রের সঙ্গে জড়িত। আমি ও আমার পরিবারের কারো কাছে কিছু বলতে পারছি না। বলতে গেলে আমার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লিয়াকত আলীর মতো আরো সাতজনকে ভালো চাকরি দেয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিদেশে পাঠিয়েছে আসিফ ইকবাল। তাদেরও মানবপাচার চক্রের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। করা হচ্ছে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।
আদম ব্যবসায়ী আসিফ ইকবাল ইউপি নির্বাচনে সদস্য পদে নির্বাচিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। দ্রুত এ আদম ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ভুক্তভোগীদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে স্বজন ও এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আসিফ ইকবাল বলেন, আমি ২০১২ সাল থেকে এ ব্যবসায় নিয়োজিত। এ পর্যন্ত ৫০০ ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠিয়েছি। এদের একটু সমস্যা হয়েছে। আমি সমাধান করে দেয়ার চেষ্টা করছি।









