গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে স্ক্যাভেঞ্জিং পোলট্রির পরিবেশবান্ধব শেড নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা কাঠ দিয়ে শেডের বাটাম তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ব্যবহৃত কাঠের ধরন ও আকারসহ নির্মাণকাজে অনিয়ম রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রডিউসার গ্রুপের (পিজি) সদস্যরা।

তাদের অভিযোগ, শেড হওয়ার কথা ছিল চৌচালা। করা হয়েছে দোচালা। চালে দেয়ার কথা ছিল মেরুন রংয়ের ০.৪৫৭ মিলিমিটার গেজ পুরু ইন্ডাস্ট্রিয়াল টিন। দেয়া হয়েছে ০.২৬০ মিলিমিটার গেজ। টিনের তাপ নিয়ন্ত্রণে চালে ব্যবহার করা হয়নি ইনস্যুলেটর। বেড়ায় কেবল প্লাস্টিকের জালি দেয়া হয়েছে। অথচ সেখানে দেয়ার কথা ছিল প্লাস্টিকে মোড়ানো ১৪ নম্বর গেজ জিআই তারের জালি। ১০ মিলিমিটার রডের তৈরি দরজা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে দেয়া হয়েছে কাঠের দরজা। এক ফুট উচ্চতার ১০ ইঞ্চি ইটের গাঁথুনির নয়টি পিলার থাকার কথা থাকলেও সাতটি পিলার করা হয়েছে।

যদিও অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) মো. ফজলুল করিম। তিনি বলেন, ‘মুরগির শেডগুলো শিডিউল মোতাবেক করা হয়েছে। এতে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। সন্দেহ হলে জুডিশিয়ালি মাঠে গিয়ে দেখতে পারেন।’

উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের তালুকবাজিত গ্রামের পিজি সদস্য মৌসুমী আকতারসহ কয়েকজন বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তারা আমাদের বলেছেন, তোমাদের ২০ হাজার টাকা করে বাজেট এসেছে। এ হিসেবে আমরা স্বাক্ষর করেছি। শেডও নির্মাণ করে দিয়েছে তারা। বলেছে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এটুকুই আমরা জানি। কত টাকা খরচ হয়েছে তা জানি না।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তারাপুর, বেলকা ও সর্বানন্দ ইউনিয়নে ৩০টি করে এবং হরিপুর ও কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নে ২৮টি করে ১৪৬টি পরিবেশবান্ধব মুরগির শেড নির্মাণের বরাদ্দ আসে। যা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল বাস্তবায়ন করেছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহফুজার রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সোমবার আমি মুরগির শেডগুলো পরিদর্শন করতে যাব। অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’