প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে সফররত দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আজ সকালে এ বৈঠক হয়। এর পর সাংবাদিকদের সার্জিও গর বলেন, বাংলাদেশের ‘অপার সম্ভাবনা’ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা শিথিল রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যাতে মানুষে এখানে পর্যটন ও বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়। আগামী সপ্তাহে বিনিয়োগে আগ্রহী একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসছে।

সার্জিও গর বলেন, আমরা দুইপক্ষের মধ্যে এমন বার্তা পৌঁছে দিতে চাই, এখানে অবিশ্বাস্য সম্ভাবনা রয়েছে। তা ওষুধ শিল্প, আইটির সঙ্গে সম্পর্কিত বা অন্যকিছু যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ একসঙ্গে অনেক কিছু হতে পারে। এর ওপর ভিত্তি করে সম্ভাবনাকে পরবর্তী স্তরে এগিয়ে নিতে দুই দেশই উন্মুখ।

তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে পরে এক্স বার্তায় সার্জিও গর লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো জোরদার এবং আমাদের অংশীদারত্ব আরো শক্তিশালী করার যে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি অগ্রাধিকারমূলক বিষয়। একসঙ্গে কাজ করলে আমরা বাস্তব ও অর্থবহ ফল অর্জন করতে পারব।’

তিন দিনের সফরে গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গর। এদিন সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন সার্জিও গর।

গতকাল কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন সার্জিও গর। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের ধারাবাহিক সফরের অংশ হিসেবে সার্জিও গরের এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর মার্চে এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ মে মাসে বাংলাদেশ সফর করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের আগস্টে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও হোয়াইট হাউজের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা সার্জিও গরকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেন।

নয়াদিল্লিকে কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে রেখে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব পালন করছেন সার্জিও গর। এর আওতায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা ও ভুটানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়েও কাজ করছেন তিনি।