রাঙ্গামাটির দুর্গম জুরাছড়ি উপজেলায় হঠাৎ করে পানিবাহিত রোগ ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্যমতে, এক সপ্তাহের মধ্যে ৩০-৪০ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। গতকাল পর্যন্ত  হাসপাতালে নয়জন রোগী ভর্তি ছিলেন। যারা সবাই বয়স্ক ও মধ্যবয়স্ক।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দুর্গম এলাকার পাহাড়ি পরিবারের লোকজনই বেশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। উপজেলার জুরাছড়ি সদর ইউনিয়নের গবাছড়ি, জনতাপাড়া ও লুলাংছড়ি গ্রামের প্রায় ৪০ জনের মতো রোগী হাসপাতালে গত এক সপ্তাহে ইনডোর ও আউটডোরে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে এক শিশু ছাড়া সবাই বয়স্ক ও মধ্যবয়স্ক। তবে স্বাভাবিকতার চেয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও মহামারী আকার ধারণ করেনি বলছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, আক্রান্ত এলাকার পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীর মানুষ মূলত ঝিরি-ঝরনার পানি পান করে। সাম্প্রতিক সময়ে বৃৃষ্টিপাতের কারণে ঝিরি-ঝরনার পানি নোংরা ও দূষিত হয়ে পড়ার কারণে প্রান্তিক এলাকার এসব মানুষ ডায়রিয়াসহ অন্যান্য পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতি বছরই সুপেয় পানী সংকটের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার প্রত্যন্ত এলাকাগুলোয় পানিবাহিত রোগ দেখা দেয়। পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় পাহাড়ে সুপেয় পানির সংকট থাকলেও পানিবাহিত রোগের সমস্যা সমাধানে আসবে না।

ডায়রিয়া প্রকোপের বিষয়টি নিশ্চিত করে জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনন্যা চাকমা বণিক বার্তাকে বলেন, এক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে আউটডোর-ইনডোরে ৩০-৪০ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন হাসপাতালে নয়জন রোগী ভর্তি আছেন। মহামারী আকার ধারণ না করলে প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে।

এ প্রসঙ্গে রাঙ্গামাটির সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা বণিক বার্তাকে জানান, সাধারণত দু-একজন হাসপাতালে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি থাকেন। বর্তমানে জুরাছড়ি উপজেলা হাসপাতালে নয়জন রোগী ভর্তি আছেন। বলা যায় ধীরে ধীরে প্রকোপ বাড়ছে। আতঙ্কিত হওয়ার মতো নয়। আজ থেকে ডায়রিয়া আক্রান্ত বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম যাবে। বিশেষত যেসব এলাকা থেকে রোগীরা আসছেন, সেসব এলাকায় আগে মেডিকেল টিম যাবে।