মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে শুক্রবার টি২০ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। তাতে নিশ্চিত হয়ে যায়, নিউজিল্যান্ডের কাছে অন্তত সিরিজ হারছে না নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ২০২৩ সালে তাই কোনো টি২০ সিরিজই হারছে না টাইগাররা! 

যদিও এটুকুতেই সন্তুষ্ট থাকতে চায় না বাংলাদেশ। সিরিজ জিতে মাথা উঁচু করেই বছর শেষ করতে মরিয়া টাইগাররা। নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়েই অধিনায়ক শান্ত সিরিজ জয়ের প্রত্যয়ের কথা জানান। সিরিজের শেষ ওয়ানডে ও এরপর টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতে নেয়ায় তারা এখন দারুণ আত্মবিশ্বাসী। প্রথম ম্যাচ জিতে নেয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে সফরকারী বাংলাদেশ। সিরিজে তারা ১-০-তে এগিয়ে। আজ পাঠক যখন এ প্রতিবেদন পড়বেন, ততক্ষণে বে ওভালে শেষ হয়ে যাবে সিরিজ মীমাংসার তৃতীয় ম্যাচটি। ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায়। এ ম্যাচটি জিতলেই ইতিহাস। কিউইদের মাটিতে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের গৌরবে ভাসবেন শান্ত-সৌম্যরা। আগে কখনই কোনো ফরম্যাটে এ দ্বীপদেশটিতে সিরিজ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এবার সেই অর্জনের হাতছানি।

ক্রিকেটে মিশ্র অনুভূতির বছর কেটেছে বাংলাদেশের। এশিয়া কাপ থেকে দ্রুত বিদায় ও ওয়ানডে বিশ্বকাপে ব্যর্থতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে টি২০ ফরম্যাটে এসেছে গর্ব করার মতো সফলতা। ইংল্যান্ড (৩-০), আয়ারল্যান্ড (২-১) ও আফগানিস্তানের (২-০) বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এরপর অক্টোবরে চীনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পাকিস্তানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে দ্বিতীয় সারির বাংলাদেশ দল। 

এবার নিউজিল্যান্ডের মাঠে প্রথমবারের মতো টি২০ সিরিজ (যেকোনো ফরম্যাটেই প্রথম হবে) জয়ের স্বপ্নে বিভোর শান্ত ও তার সহযোদ্ধারা। তবে কাজটি সহজ হবে না। স্বাগতিকরা সিরিজ বাঁচাতে ও টাইগারদের ইতিহাস গড়া থেকে নিবৃত্ত রাখতে মরিয়া হয়ে খেলবে। 

প্রথম ম্যাচে শরিফুল ইসলাম, শেখ মেহেদী হাসান, মুস্তাফিজুর রহমানের অনবদ্য বোলিং বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। পরে শান্তর ব্যাটে জয়ের বন্দরে নোঙর করে দল। দ্বিতীয় ম্যাচে ১১ ওভারের খেলা হয়, যাতে লড়াই ছিল সমানে সমান। শুরুতে এক উইকেট হারালেও পরে টিম সেইফার্টের ব্যাটে ভর করে ভালো সংগ্রহের দিকে এগোতে থাকে কিউইরা। সেইফার্ট ২৩ বলে ৪৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন। এরপর ড্যারিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস যখন দেখেশুনে ইনিংসটা গড়ছিলেন, তখনই বৃষ্টি শুরু হয়। তাতে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের স্বপ্নটা অপূর্ণ থাকে। যদিও আজ আরেকটি সুযোগ পাচ্ছেন শান্ত, মেহেদী, শরিফুলরা।  

দ্বিতীয় ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় এটা নিশ্চিত হয়ে যায়, বাংলাদেশের সিরিজ হারের কোনো সুযোগ নেই। নিউজিল্যান্ড জিতলেও সিরিজটা ১-১-এ ড্র হবে। অর্থ্যাৎ ট্রফিতে অন্তত একটি হাত পড়ছে বাংলাদেশ দলনায়কের। আর বাংলাদেশ জিতলে সিরিজ হবে ২-০। 

মাউন্ট মঙ্গানুই বলেই আশা। গত বছর এ মাঠে টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। সেটি ছিল যেকোনো ফরম্যাটে নিউজিল্যান্ডের মাঠে বাংলাদেশের প্রথম জয়। 

টি২০ সিরিজের আগে ওয়ানডে সিরিজটা ১-২-এ হেরেছে বাংলাদেশ। তবে শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৯৮ রানে অলআউট করে ৯ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নেয় টাইগারার। সেই জয়ে উজ্জীবিত দলটি টি২০ সিরিজেও শুভসূচনা করে। এবার সিরিজ জয়ের হাতছানি।