ঠাকুরগাঁও জেলার দক্ষিণ ঝাড়গাঁও গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম ও মর্জিনা বেগম। মাত্র ১৫ বছর বয়সে হারিয়ে যায় তাদের বড় সন্তান মতিউর রহমান। এরপর কেটে গেছে ২১ বছর। সম্প্রতি ছেলের খোঁজ পান তারা। অসুস্থতার কারণে মতিউর বাংলাদেশ অতিক্রম করে ভারতে চলে যায়। ভারতের একটি এনজিও রাস্তার পাশ থেকে তাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে রেখে সুস্থ করে তোলে। আজ মতিউরের বয়স ৩৬ বছর।

গতকাল সকাল থেকে হিলি সীমান্তে বৃদ্ধ দম্পত্তি শহিদুল ও মর্জিনা হারানো ছেলেকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন। বেলা ২টার দিকে তারা জানতে পারেন, পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা চেকপোস্ট দিয়ে মতিউর রহমানকে ফেরত দেয়া হবে। এরপর তারা হিলি থেকে বাংলাবান্ধা সীমান্তের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

মতিউরের মা মর্জিনা বেগম বলেন, ‘‌কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত এক শিক্ষার্থী আমার ছেলের ভারতে অবস্থানের খবর দেয়। তার মাধ্যমেই জানতে পারি যে আমার ছেলে বেঁচে আছে। এরপর নিয়মিত ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা বলি। এখন সে সুস্থ হয়ে আমার বুকে ফিরে আসছে। আমাকে যে কত ভালো লাগছে তা আপনাদের বলে বোঝানোর ভাষা নেই।’ 

মানসিকভাবে অসুস্থ মতিউর হারিয়ে যাওয়ার পর থানায় জিডি করাসহ দীর্ঘদিন বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজি করে তার পরিবারের সদস্যরা। তবু তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়না। পরিবার ধরে নেয়, হয়তোবা মতিউর মারা গেছে কিংবা অন্য কিছু হয়েছে। একপর্যায়ে তাকে পাওয়ার আশা এক প্রকার ছেড়েই দেয় পরিবারের সদস্যরা। 

মতিউর রহমানের বাবা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘‌আমার বড় ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। ভারত সরকার আমার ছেলেকে পেয়ে তার চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করে তাকে আমাদের কাছে ফেরত দিচ্ছে। এজন্য ভারত সরকারকে আমি আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’ 

দীর্ঘ ২১ বছর পর মতিউরের পরিবার জানতে পারে যে ভারতের শ্রদ্ধা পুনর্বাসন নামক ফাউন্ডেশনের অধীনে তাদের ছেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এটি জানার পর সংস্থাটির সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিবার। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে সরকারিভাবে অনুমোদন পেয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

২ নং আখানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রোমান বাদশা বলেন, ‘‌আজ থেকে আট মাস আগে মতিউরের সন্ধান মেলে। এরপর ভারতের মানবধিকার কর্মীরা বাংলাদেশের মানবধিকার কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মতিউরের মা-বাবাকে খবর দেন। জানানো হয় ভারতে একটি হাসপাতালে মতিউর চিকিৎসাধীন রয়েছে। এরপর নিয়মিত যোগাযোগ করে হারানো মতিউর সম্পর্কে নিশ্চিত হয় তার পরিবার। আজ মতিউরকে ফিরিয়ে আনার দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে। মতিউর ফিরে আসায় আমরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। ঈদুল আজহার আনন্দের পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়ার ২১ বছর পর ছেলে তার মা-বাবার কাছে ফিরছে, এতে আমরা ইউনিয়নবাসী সবাই খুশি।’