যশোর-ঢাকা রুটে পাঁচ ট্রেন, গদখালী রেলস্টেশন পুনরায় চালু করাসহ ছয় দফা দাবিতে
ট্রেন আটকে বিক্ষোভ করেছেন ফুলচাষীরা। গতকাল দুপুরে গদখালী রেলস্টেশন চত্বরে যশোর ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায়
সমিতির আয়োজনে এ কর্মসূচি পালন
করা হয়। এ সময় ঢাকা-যশোর রুটে চলাচলকারী বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনটি অবরোধ করে রাখেন তারা। পরে অবরোধ তুলে নিলে বেনাপোল এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।
সমিতির সভাপতি আবদুর রহিমের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু, জিল্লুর রহমান ভিটু, ঝিকরগাছা উপজেলার পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রশিদুর রহমান রশীদ, গদখালী বাজার কমিটির নেতা ডাক্তার কামাল হোসেন, গদখালী স্বজন সংঘের নির্বাহী পরিচালক সুভাষ ভক্ত বাবু, যশোর ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য সেলিম রেজা প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘গদখালী রেলস্টেশনটি ব্রিটিশ আমলে নির্মিত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও রেললাইন ও স্টেশন চালু ছিল। বেনাপোল রেললাইনটি বন্ধ হয়ে গেলে স্টেশনটিও বন্ধ হয়েছে। তবে পরে রেললাইন চালু হলেও গদখালী স্টেশন চালু হয়নি।’
ফুলচাষীরা বলছেন, দেশে ফুলের চাহিদার বেশির ভাগই আসে যশোরের গদখালী থেকে। তবে সড়ক পথে ফুল পরিবহনের কারণে সময় অপচয় ও ব্যয় বাড়ে। এজন্য লোকসানে পড়তে হয় চাষীদের। গদখালী রেলস্টেশন চালু হলে ট্রেনে পদ্মাসেতু দিয়ে ঢাকায় ফুল পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করেন তারা। একই সঙ্গে ছয় দফা দাবিও তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো বেনাপোল থেকে ঢাকায় দুটি ট্রেন, দর্শনা থেকে যশোর হয়ে ঢাকার দুটি ট্রেন ও খুলনা থেকে যশোর, ঈশ্বরদী ও যমুনা সেতু হয়ে একটি ট্রেন বহাল রাখতে হবে। ঢাকায় অফিস ধরার মতো সময়ে যশোর জংশন থেকে ট্রেন দিতে হবে। আন্তঃনগর ট্রেনে সুলভ বগি এবং ফুল, মাছ ও সবজিবাহী বগি (ভেন্ডার) যোগ করতে হবে। ট্রেনের ভাড়া সহনীয় পর্যায়ে নামাতে হবে। নিবন্ধনের বাইরেও টিকিট প্রাপ্তি নিশ্চিত এবং সিনিয়র সিটিজেনদের টিকিট প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডাবল লাইন স্থাপন করতে হবে।
ফুলচাষী সমিতির নেতারা বলেন, ‘গদখালীর ফুল ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। দেশে চাহিদার ৭০ শতাংশ ফুল এ অঞ্চল থেকে সরবরাহ হয়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেলবগি (ভ্যান্ডার) ফুল ও সবজি পরিবহনে বরাদ্দ দিলে গদখালী স্টেশন থেকে ফুল ও সবজি সরবরাহ করা যাবে। দর্শনার্থীরা দূর-দূরান্ত বিশেষ করে খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ থেকে ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবে।’










