প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হিসেবে খ্যাত লক্ষ্মীপুর পৌরসভা, কিন্তু যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পৌর এলাকা যেন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের বর্জ্য অব্যবস্থাপনার ফলে জেলা শহরের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। আবর্জনার দুর্গন্ধে পৌর শহরের বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। এসব বর্জ্য অপসারণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় গন্ধে অতিষ্ঠ পৌরবাসী। 

এদিকে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনেই জেলা শহরের উত্তর তেমুহনীতে আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে জনবহুল এলাকায় বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহকৃত বর্জ্য বাছাই করেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এতে চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টিসহ নাকে কাপড় চেপে পথচারীদের ওই স্থান পার হতে হচ্ছে। ফলে ভোগান্তির পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন পৌর এলাকার বাসিন্দারা। তবে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে শিশুসহ স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। তেমুহনী বাসস্ট্যান্ড ব্যস্ততম এলাকা হওয়ায় ফুটপাতে ময়লার স্তূপ এড়িয়ে চলতে গিয়ে পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। পরিচ্ছন্ন পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্যকর পরিবেশ গঠনে দ্রুত বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা (ডাম্পিং প্লান্ট) বাস্তবায়নের দাবি বাসিন্দাদের। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সালে লক্ষ্মীপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ড থেকে প্রতিদিন পাঁচটি ট্রাক ও ২৫টি ভ্যানগাড়ির মাধ্যমে ৭৪ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ২০-২২ টন বর্জ্য সংগ্রহ করেন। 

লক্ষ্মীপুর পৌর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শহরের বিসিক শিল্প নগরী এলাকার সামনে, ইটেরপুল ও ফায়ার সার্ভিসসংলগ্ন এলাকায় আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রেখেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। যত্রতত্র এভাবে ময়লা ফেলায় এলাকাগুলো ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। পরিবেশ দূষণসহ স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

লক্ষ্মীপুর উত্তর তেমুহনী এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক বাদল মিয়া, পলাশ, আবদুল খালেক বলেন, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ময়লা-আবর্জনা এনে অটোরিকশাস্ট্যান্ডের পাশে জমা করা হয়। এতে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। ময়লার দুর্গন্ধ ছড়ানোর ফলে পথচারীদের নাকে কাপড় দিয়ে চলাচল করতে হয়। তাছাড়া এখানে দাঁড়াতে না পারায় যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। 

লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মফিজ মাস্টার ও আবুল বাসার জানান, মহাসড়কের দুই পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলানোর কারণে এলাকার ব্যবসায়ীরা কষ্টে আছেন। তাদের বাসা-বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে খুব অসুবিধা হয়।  ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে এ এলাকায় ক্রেতারা আসতে চান না। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

একই এলাকার ফয়সাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘পৌরসভা থেকে লোক এসে আমাদের প্রতি ঘর থেকে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য ১০০-২০০ টাকা করে নেন। অথচ তারাই বাসাবাড়ির ময়লা সংগ্রহ করে আবার আমাদের বাসার সামনে রাস্তার দুই পাশে ফেলে রেখে যান। এটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।’ তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পৌর মেয়রের প্রতি দাবি জানান।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘‌আবর্জনার দুর্গন্ধে শ্বাসনালিতে ইনফেকশন হয়ে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এভাবে আবর্জনা ফেলা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। এতে রোগবালাই বেড়ে যায়।’

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার মেয়র মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া বলেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ নাগরিক সেবা প্রদান করাই পৌরসভার প্রধান কাজ। তবে জায়গা সংকুলান না থাকায় উত্তর তেমুহনীর মতো জনবহুল এলাকায় ময়লা-আবর্জনা বাছাইয়ের কাজ করতে হচ্ছে।  জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি আমরা উপলব্ধি করতে পেরেছি। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সংগ্রহকৃত বর্জ্য বাছাইয়ের জন্য অল্প সময়ের মধ্যে একটি জায়গা দেখে নেয়া হবে যাতে পৌরবাসীর অসুবিধা না হয়। প্রধানমন্ত্রী একনেক সভায় লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আরো একটি আধুনিক ডাম্পিং প্লান্টের অনুমোদন দিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে এর সফল বাস্তবায়ন দেখতে পাবেন পৌরবাসী।’