সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোয় বিনামূল্যে খাবার স্যালাইন (ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট বা ওআরএস) সরবরাহ করছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট। সারা দেশে প্রতিষ্ঠানটির পাঁচটি আঞ্চলিক ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে যশোরে একটি। এসব ইউনিটের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সিংহভাগই আমদানি হয়। তবে কাঁচামাল সংকটে যশোর ইউনিটের উৎপাদন ৩০ নভেম্বর থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাবে খুলনা বিভাগসহ ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে স্যালাইনের সংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট যশোর ইউনিটের ব্যবস্থাপক ডা. শাহনেওয়াজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখনো আমাদের কাছে প্রায় পাঁচ লাখ ব্যাগ স্যালাইন মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে আগামী এক মাস চালানো যাবে। যদি এর মধ্যে কাঁচামাল সরবরাহ না পাই, তাহলে সংকট দেখা দিতে পারে। তবে জানতে পেরেছি সরকার শিগগিরই বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করছে। আশা করছি স্বাস্থ্যসেবায় এর প্রভাব পড়বে না।’
এর আগে রংপুর ও বরিশালের দুই ইউনিটের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বাকি ইউনিটগুলোও বন্ধ হওয়ার পথে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ইউনিটগুলো থেকে কাঁচামাল সংকটের কথা আমাদের জানিয়েছে। কাঁচামাল ক্রয়ের জন্য গত জুলাই ও আগস্টের দিকে ই-জিপি করা হয়েছে। এ কার্যক্রম এখন শেষ পর্যায়ে। যারা দরপত্র প্রস্তাব জমা দিয়ে ক্রয়াদেশ পান, তাদের কেউ কেউ কাঁচামাল আমদানি করেন। আবার কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল সংগ্রহ করেন। কাঁচামালের সংকট হঠাৎ করে হয়নি। গত অর্থবছরে ক্রয় প্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি। আমরা অন্যান্য ইউনিটে খোঁজ নিয়েছি, সেখানে স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।’
মজুদ থাকলেও উৎপাদন বন্ধ থাকাকালীন চাহিদা বেশি হয়ে গেলে ঘাটতি দেখা দেয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন।










