প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের পরীক্ষা স্থগিত করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। এতে বিপাকে পড়েন তিন লাখের বেশি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষা দিতে না পেরে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীরা।
জানা যায়, গতকাল বেলা ১১টায় প্রায় ১০০ কেন্দ্রে সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের পরীক্ষা শুরু হয়। তবে আগের রাতে প্রশ্নফাঁস হয়েছে এমন একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ১০টার দিকে এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়লে ১০টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। তবে মিরপুর অঞ্চলের দুটি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে ২৪২টি পদে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে তিন লাখেরও বেশি প্রার্থী ছিল।
এদিকে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার প্রতিবাদে বেলা সোয়া ১১টা থেকে দুপুর ১২টার দিকে শাহবাগ, মানিক মিয়া এভিনিউ, নীলক্ষেত মোড়, সাতমসজিদ সড়কসহ কয়েকটি স্থান অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীরা। লালমনিরহাট থেকে আসা পরীক্ষার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ৯ ঘণ্টা জার্নি করে সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাই। কেন্দ্রে ঢোকার ৩০ মিনিট পর আমাদের জানানো হলো প্রশ্নফাঁস হয়েছে। এখন আর পরীক্ষা নেবেন না। এটা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে তামাশা করা। এর সঙ্গে যুব উন্নয়নের কর্মকর্তারা জড়িত। এদের বিচার করতে হবে।’
আগামী ১৬ অক্টোবর পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। গতকাল এক অফিস আদেশে কমিটি গঠনের কথা জানান মন্ত্রণালয়। এতে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। সদস্য সচিব করা হয়েছে একই মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অধিশাখার উপসচিবকে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অর্থ ও কর্মদক্ষতা ব্যবস্থাপনা অধিশাখার যুগ্ম সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সিড ফাইন্যান্সিং বিভাগের পরিচালক। কমিটি প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবানবন্দি নেবে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অভ্যন্তরীণ ও বাইরের সহায়তাকারীদের ভূমিকা এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করবেন বলে জানানো হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে অধিপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডিএম আতিকুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রণালয়। কমিটি তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করে কারা জড়িত তা বের করবেন। তার পর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’










