মৃত্যুর প্রায় ২৫ বছর পর মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তর করা হলো সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ আহমদ ছফার দেহাবশেষ। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে দেহাবশেষ স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়।
কবি ও প্রাবন্ধিক সাখাওয়াত টিপু গণমাধ্যমকে বলেন, মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের একটি অংশ আছে, যেখানে সাধারণ মানুষকে দাফন করা হয়। আরেকটি অংশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধাদের দাফন করা হয়। ২০০১ সালে রাজনৈতিক কারণে ছফাকে সাধারণদের সঙ্গে দাফন করা হয়েছিল। সেখান থেকে তার দেহাবশেষ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের মূল অংশে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে ‘আহমদ ছফা স্মৃতিবক্তৃতা ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে লেখক ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান সলিমুল্লাহ খান এ রাজনৈতিক কারণ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, আহমদ ছফা যখন মারা যান, তখন দেশে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল। কিন্তু সে সময় সদ্য সাবেক আওয়ামী লীগ আমলের ব্যক্তিরাই কবরস্থানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। তারা আহমদ ছফাকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে কবর দিতে দেননি।
তিনি আরো বলেন, ২০০১ সালের ২৮ জুলাই আহমদ ছফা মারা যান। তাকে কবর দিতে গিয়ে আমরা লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিলাম। যে আহমদ ছফা ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন বলা যায়, সেই আহমদ ছফাকে কবর দিতে গিয়ে ঘুষ দিতে হয়েছে, তুরাগের তীরে (ঢাকার মিরপুর এলাকা) একটা কবরের জায়গা পেতে।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের পতনের পর আহমদ ছফার কবর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয় বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন সলিমুল্লাহ খান।










