সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শাহেন শাহ ওরফে শাহীন হত্যা মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাবেক এক কাউন্সিলরসহ নয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে আরো ২২ আসামিকে। গতকাল রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ওএইচএম ইলিয়াস হোসাইন এ রায় ঘোষণা করেন।
আট বছর আগের এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার দিন করোনা পরিস্থিতিসহ নানা কারণে মোট ১৪ বার পেছানো হয়েছে। গতকাল ১৫তম ধার্য দিনে রায় ঘোষণা করা হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রাসিকের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মুনসুর রহমান, হাসানুজ্জামান হিমেল, তৌফিকুল ইসলাম চাঁদ, মো. মহসিন, মো. সাইরুল, রজব, বিপ্লব, মো. মমিন ও আরিফুল ইসলাম।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ পেয়েছেন মাহবুল হোসেন, সাত্তার, সাজ্জাদ হোসেন, বখতিয়ার আলম রানা ওরফে রংলাল, হাসান আলী, মাসুদ, রাসেল, রাজা, মুর্তুজ, সুমন, আসাদুল, আখতারুল, জইদুর রহমান, ফরমান আলী, জয়নাল আবেদিন, রাজু আহম্মেদ, আকবর আলী, সম্রাট হোসেন, লাল মোহাম্মদ ওরফে লালু, টিয়া আলম, আজাদ হোসেন ও মো. মাসুম। আসামিরা নগরীর রাজপাড়া থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় পলাতক মমিন, আরিফুল, আজাদ ও মাসুম ছাড়া অন্য আসামিরা কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডও করেন আদালত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ১ লাখ টাকা করে ও যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়াদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। এ অর্থ আদায় করে ভিকটিমের পরিবারকে পৌঁছে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেয়া হয়।
নিহত শাহীন ছিলেন রাজশাহী কোর্ট কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবেও কাজ করতেন। তিনি রাসিকের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রজব আলীর ছোট ভাই।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোসাব্বিরুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালের ২৮ আগস্ট নগরীর রাজপাড়া থানার গুড়িপাড়া এলাকার ক্লাব মোড়ে শাহেন শাহ শাহীনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন আসামিরা। পরে তাকে আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহীনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই নাহিদ আক্তার নাহান বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাত আরো ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়। তদন্তের পর রাজশাহী সিটি করপোরেশনর ১ নম্বর ওয়ার্ডের তত্কালীন কাউন্সিলর মুনসুর রহমানসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
অ্যাডভোকেট মোসাব্বিরুল ইসলাম আরো জানান, থানায় মামলা দায়েরের পর সেটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে মামলাটি বিচারের জন্য রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো জয়। এ আদালতে গত বছরের ১১ নভেম্বর উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। মামলায় ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত। এরপর আদালত গত বছরেরই ১০ ডিসেম্বর মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। কিন্তু দফায় দফায় রায় ঘোষণার দিন পিছিয়ে এক বছর পর রায় হলো চাঞ্চল্যকর এ মামলার।
রায়ের পর তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও নিহতের ভাই নাহিদ আক্তার নাহান। তিনি বলেন, রায়ে আমরা খুশি। এখন দ্রুত যেন এ রায় কার্যকর হয়, সে প্রত্যাশাই করছি। এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।










