প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মানুষই আগ্রহী এবং দুই দেশের নেতারা একই ভাবনায় রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন বসবেন, তখন এমন কোনো প্রশ্ন নেই যার সমাধান পাওয়া যাবে না।’

সচিবালয়ে গতকাল মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে বৈঠকে বসবেন। এ নিয়ে তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। বৈঠকের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মানুষের আগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘দুই দেশের একটা ইন্টারেস্ট আছে। যখন একটু কথা হয় যে প্রধানমন্ত্রীর সফর, এভরিবডি ইজ এক্সাইটেড, দুই দেশে। তার মানে ইট ইজ আ গুড নিউজ।’

দুই দেশের মানুষই এ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি অত্যন্তই ইতিবাচক।’ একই সঙ্গে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময় দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হাইকমিশনার বলেন, ‘এটা একেবারেই নিশ্চিত যে কোনো না কোনো সময়ে সার্বভৌম স্বাধীন দুই দেশের দুই নেতা বৈঠকে বসবেন।’

তবে দুই দেশের মধ্যে সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘এগুলো নেই মনে করা ভুল হবে। কিন্তু দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যখন বসবেন, তখন এমন কোনো প্রশ্ন নেই যার সমাধান পাওয়া যাবে না।’

দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক আগ্রহের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পানি, ক্রিকেট, ফুটবল, বাণিজ্য, কবিতা, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও সংগীতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের যোগাযোগ রয়েছে।’ সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরো বাড়ানোর পক্ষেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি নির্ভরতার বদলে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ওপর জোর দেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তিনি আশাবাদী কিনা জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আমি একদম আশাবাদী।’ গণতন্ত্রে জনগণের চাপ থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত মানুষ কী চায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের মানুষ চায় সম্পর্কের একটি “‍গোল্ডেন চ্যাপ্টার” শুরু হোক।’ এ কারণেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে সম্ভাব্য বৈঠকের আগে যথাযথ প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘তাড়াহুড়ো করলে কোনো লাভ কারোর নেই। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যেন যথাযথ প্রস্তুতি নেয়া হয়।’

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, পানি ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা মাস ঠিক হয়নি। নভেম্বর নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো তারিখ নির্ধারণের কথা হয়নি।