বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বেলঘরিয়া গ্রামে ধান মাড়াইয়ের কাজ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে শেফালী বেগম (৪৮) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। গতকাল ভোরে বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মঙ্গলবার সকালে তুচ্ছ ঘটনায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত শেফালী বেগম ওই গ্রামের বাচ্চু মিয়ার স্ত্রী। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আরো অন্তত আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন শেরপুর উপজেলার বেলঘরিয়া গ্রামের ইয়াসিন আলীর ছেলে বাচ্চু মিয়া (৫০), তার ছেলে ইব্রাহিম হোসেন (৩৫), মো. রাব্বী মিয়া (২৫), রাজমহর আলী ওরফে ঠাণ্ডু মিয়া (৫০), রুবি বেগম (৪০)। এছাড়া আরো তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বেলঘরিয়া গ্রামে প্রতিবেশী রাজমহর ওরফে ঠাণ্ডুর বাড়ির সামনে বাচ্চু মিয়া ও তার স্ত্রী শেফালী বেগম মেশিনে ধান মাড়াইয়ের কাজ করছিলেন। এ সময় খড়কুটো ও ধুলাবালি ঠাণ্ডু মিয়ার বাড়ির ভেতরে যায়। এ নিয়ে শেফালী বেগম ও ঠাণ্ডুর স্ত্রী রুবি বেগমের মধ্যে ঝগড়া হয়। এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ইট দিয়ে শেফালী বেগমের বুকে আঘাত করা হয়। এতে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত আটজনকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এর মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাত্ক্ষণিকভাবে বগুড়ায় শজিমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেফালী বেগম গতকাল ভোরে মারা যান।

নিহত গৃহবধূর স্বামী বাচ্চু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘ঠাণ্ডু মিয়াসহ তার পক্ষের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমার স্ত্রী নিহত আর চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।’

অন্যদিকে ঠাণ্ডু মিয়ার দাবি, প্রতিপক্ষের হামলায় তাদের পক্ষের তিন-চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতাউর রহমান খোন্দকার জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।