নভেল করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ইতালিতে। ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকাতে এরই মধ্যে বন্ধ করা হয়েছে ইতালির পর্যটন শহরগুলোর সব নাইট ক্লাব, রেস্টুরেন্টসহ স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গির্জা, সিনেমা হল ও জাদুঘর। অতিজরুরি না হলে জনসমাগমস্থল পরিহার ও ভ্রমণ না করতে নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এমনকি সেবা নিতে আপাতত কনস্যুলেটে আসা থেকে বিরত থাকতেও অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, মিলান।

বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, মিলান এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ইতালির বিভিন্ন এলাকায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। করোনাভাইরাস একটি ভয়াবহ সংক্রামক ভাইরাস। তাই অধিক জনসমাগমস্থল পরিহার করতে এবং অতিজরুরি না হলে ভ্রমণ না করতে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কনস্যুলেট অফিস যে ভবনে অবস্থিত, সে ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে বসবাসকারীরা ব্যতীত বাইরের কোনো লোকের ভবনের অভ্যন্তরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এ অবস্থায় অতিজরুরি সেবা যেমন জরুরি ট্রাভেল পারমিট, মরদেহ দেশে প্রেরণ ব্যতীত কনস্যুলেটের নিয়মিত ও সাধারণ সেবা কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কনস্যুলেট, মিলান। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, নতুন পাসপোর্টের জন্য এনরোলমেন্ট, নবায়ন, বিভিন্ন রকম সার্টিফিকেট এবং যেকোনো ভিসা/নো-ভিসা আবেদন জমা প্রদান ও পাসপোর্ট ডেলিভারি গ্রহণের জন্য আপাতত কনস্যুলেটে আসা থেকে বিরত থাকার জন্য সেবাপ্রার্থীদের অনুরোধ করা হচ্ছে।

এদিকে ইতালিতে করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) ছড়িয়ে পড়ায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আব্দুস সোবহান সিকদার এ বিষয়ে বলেন, ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দূতাবাস সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। প্রবাসী বাংলাদেশীদের কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এমন সন্দেহ পোষণ করলেই রোম দূতাবাসের হেল্প ডেস্ক নম্বরে (৩৩৩৭৪৪১৬৯০) ফোন করে জানাতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, মিলান (৩২৯৪৩০৫ ও ৩২০২২৪৪৮২৯) নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত আরো বলেছেন, ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সংবাদ আমাদের কাছে রয়েছে এবং সেখানে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবরও আমরা পেয়েছি। এ অবস্থায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের যেকোনো সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে দূতাবাস। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের আতঙ্কিত না হয় ধৈর্য ধারণ করে পরিস্থিতি মোকাবেলার অনুরোধ করেছেন। দূতাবাস বন্ধ রাখার কোনো রকম নির্দেশনা আসেনি উল্লেখ করে তিনি জানান, দূতাবাসের সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। যারা সেবা নিতে আসছেন, তাদের সতর্কীকরণ বার্তা দেয়া হচ্ছে এবং সব কর্মকর্তা এ ব্যাপারে সজাগ রয়েছেন।