বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ময়মনসিংহ নেয়ার পথে তিনি মারা যান। গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

গতকাল দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে শেরপুর পৌর ঈদগাহ মাঠে নুরুজ্জামান বাদলের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাজা বিকাল ৫টায় শেরপুর সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিপুল জনসমাগমের কারণে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় শ্রীবরদী-বকশীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষ ছড়িয়ে পড়েন। এ অবস্থায় পরে শ্রীবরদী সরকারি মিনি স্টেডিয়াম মাঠে তৃতীয় দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। শেরপুর পৌর পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক হজরত আলী, সদ্য সাবেক জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম এবং শেরপুর সদর আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তার মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন কার্যক্রম বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন আপাতত বাতিল বা টার্মিনেট করা হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ১৭ অনুচ্ছেদে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। পরে এ আসনের জন্য নতুন করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে। তবে কবে নির্বাচন হবে, ইসি এখনো সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি।’

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১৭ অনুচ্ছেদ (১) অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর এবং ভোটগ্রহণের আগে কোনো প্রার্থী মৃত্যুবরণ করলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনসংক্রান্ত সব কার্যক্রম বাতিল করতে হয়।