নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আজ দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। খবর বাসস।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমানে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। নৈরাজ্য থেকে দেশ বের হয়ে আসা একটি বড় উন্নয়ন। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণেই দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
সম্প্রতি রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে হামলাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেন তিনি। জাহেদ উর রহমান বলেন, সেখানে কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা না ঘটলেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রাড্ডার ঘটনায় তদন্ত চলছে। ঘটনার সময় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে কারো জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার আইনি পদক্ষেপ নেবে।
তিনি বলেন, অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই সরকারের কাজ।
সালমান মুক্তাদিরের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে তার প্রতি আমাদের সহানুভূতি রয়েছে। তবে সেখানে চাঁদাবাজির ঘটনা না ঘটলেও অপতথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। সালমান মুক্তাদিরের মতো মানুষকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে যে কেউ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে পারেন—তাতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু মিথ্যা ও অপতথ্য দিয়ে কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ন্যারেটিভ তৈরি করা অপরাধ। সবাইকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপির নামে চাঁদাবাজির ট্যাগ লাগানো এক ধরনের রাজনীতি হলেও সরকার কেবল ন্যারেটিভে কান না দিয়ে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নিচ্ছে।’
অপতথ্য প্রতিরোধে আইনি সুরক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন জাহেদুর রহমান। তিনি বলেন, অপতথ্য রোধে সরকার নতুন ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’-এর আইনি পরিকাঠামো প্রণয়নে কাজ করছে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় শুরু হয়েছে এবং আরো মতবিনিময় হবে। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
অপতথ্য ছড়ানোকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যাধি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল আইনি সুরক্ষা দিয়ে অপতথ্য বন্ধ করা যাবে না। অসত্য তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি রোধে সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা অপরিহার্য। সরকারের পাশাপাশি অপতথ্য প্রতিরোধে তথ্য কমিশন আগামী দিনে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।










