সাতক্ষীরা জেলায় ১৩ হাজারের অধিক দরিদ্র নারী মাতৃত্বকালীন ভাতা ভোগ করছেন। প্রতি মাসে ৮০০ টাকা হারে তিন বছরের জন্য একেকজন নারী ২৮ হাজার ৮০০ টাকা করে পাচ্ছেন। ভাতার অর্থ পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র মায়েরা। নবজাতকের পুষ্টিহীনতা থেকে রক্ষা পেতে সহায়ক হিসেবে কাজে লাগছে এ অর্থ।

মাতৃত্বকাল ভাতাভোগী জেলার তালা উপজেলার আটারই গ্রামের গৃহবধূ মাহমুদা খাতুন জানান, তার স্বামী একজন ভ্যানচালক। অনেক কষ্টে সংসার নির্বাহ হয়। মাতৃত্বকালীন ভাতা হিসেবে মাসে ৮০০ টাকা করে পেয়ে অনেক উপকৃত হচ্ছেন। এ টাকা দিয়ে নিজের ও বাচ্চার জন্য পুষ্টিকর কিছু খাদ্য সংগ্রহ করতে পারছেন।

একই অনুভূতি ব্যক্ত করে সদর উপজেলার চুপড়িয়া গ্রামের গৃহবধূ মোসলেমা খাতুন জানান, ইটভাটা শ্রমিক স্বামীর উপার্জন দিয়ে সংসার চালানো মুশকিল হয়ে পড়ে। গর্ভধারণের পর দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মাতৃত্বকালীন ভাতার ব্যবস্থা হয়। এর পর থেকে মাসে ৮০০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। অভাবের সংসারে ভাতার অর্থ তার অনেক উপকারে আসছে।

এদিকে সাতক্ষীরা জেলা মহিলাবিষয়ক উপপরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দরিদ্র নারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতার কর্মসূচির অধীনে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ১৩ হাজার ২৫১ জন গর্ভধারণকারী নারী ভাতা গ্রহণ করছেন।

মাতৃত্বকাল ভাতার কর্মসূচির অনুকূলে দরিদ্র এসব নারীর জন্য ৩৮ কোটি ১৬ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ এসেছে।

সাতক্ষীরা জেলা মহিলাবিষয়ক উপপরিচালক একেএম শফিউল আযম জানান, সরকারের পক্ষ থেকে মাতৃত্বকালীন ভাতা পেয়ে জেলার অনেক অসচ্ছল নারী উপকৃত হচ্ছেন।

প্রতি মাসে ৮০০ টাকা হারে তিন বছরে একেকজন নারী প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা করে পাচ্ছেন। যা দিয়ে গর্ভধারণকারী নারী নিজের ও তার শিশুর জন্য পুষ্টি এবং সুষম খাদ্য সংগ্রহ করতে পারছেন নিশ্চিন্তে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ হুমায়ুন কবির জানান, বর্তমান সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মানবিক একটি প্রকল্প হচ্ছে দরিদ্র নারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা। এটির মাধ্যমে অনেক দরিদ্র মা গর্ভধারণ করে ভাতা ভোগ করে উপকৃত হচ্ছেন। এই অর্থ পেয়ে একজন প্রসূতি নিজের ও তার নবজাতক সন্তানের দুধ ও অন্যান্য খরচ মেটাতে পারছেন। প্রকৃত দরিদ্র মায়েরা যাতে কোনো রকম হয়রানি ছাড়াই মাতৃত্বকালীন ভাতা পেতে পারেন সেজন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে তদারকি করা হয়।