আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘাতে টিকতে না পেরে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি), সেনাবাহিনী, শুল্ক কর্মকর্তাসহ ৩৩০ জনকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দেশটির কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় উখিয়ার ইনানী নৌবাহিনীর জেটিঘাট থেকে বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মিয়ানমার নাগরিকদের বিজিপির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সেন্ট মার্টিন-টেকনাফ রুটের পর্যটকবাহী দুটি জাহাজে করে তাদের গভীর সমুদ্রে অবস্থান করা মিয়ানমারের জাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়। জাহাজটি গতকাল রাত ১টায় মিয়ানমারের সিটু বন্দর থেকে বাংলাদেশের জলসীমায় এসে পৌঁছে।
গতকাল সকালে তাদের বান্দরবানের ঘুনধুম স্কুল ও টেকনাফের হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজিবির বিশেষ ১১টি বাসে বিশেষ নিরাপত্তায় ইনানী নৌবাহিনীর জেটিঘাটে আনা হয়। সেখানে ইনানী ঘাটে তাঁবু স্থাপন করে তাদের রেখে নাম ও ছবি শনাক্ত করে জাহাজে তোলা হয়। নিরাপত্তার জন্য সকাল থেকে বন্ধ রাখা হয় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক।
এর আগে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে স্পিডবোটে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পুলিশ কর্নেল মিউ থুরা নাঙয়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট বিজিপির প্রতিনিধি দল ইনানী নৌবাহিনী জেটিঘাটে এসে পৌঁছে।
বিজিপি সদস্যদের হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী ও মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অ কিউ মোয়ে।
এছাড়া মিয়ানমারের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, র্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ গোয়েন্দা বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
হস্তান্তর শেষে বিজিবি মহাপরিচালক সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিককালে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের জেরে প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী বিজিপি সদস্যসহ ৩৩০ জন মিয়ানমার নাগরিককে বিজিপির কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি। এর মধ্যে ৩০২ জন বিজিপি সদস্য, চারজন বিজিপি পরিবারের সদস্য, দুজন সেনাসদস্য, ১৮ জন ইমিগ্রেশন সদস্য ও চারজন বেসামরিক নাগরিক।’










