দেশের জ্বালানি খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি ও শিল্প খাতের ধারাবাহিকতা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমানযোগ্য (প্রেডিক্টেবল) নীতি কাঠামোর জোর দাবি জানিয়েছেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী। নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে খাতসংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে আলোচনার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
আজ বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের গ্র্যান্ড বলরুমে বণিক বার্তা আয়োজিত বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও রূপান্তর শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে তিনি এ কথা বলেন।
পলিসি কনক্লেভে উপস্থাপিত সংক্ষিপ্ত প্রেজেন্টেশনে জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি ও নীতিগত বৈষম্য তুলে ধরে আজম জে চৌধুরী বলেন, যে কোনো নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি। নীতি তৈরির আগে অংশীজনদের সাথে আলোচনা করা আবশ্যক। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সোলার খাতের শুল্ক ছাড় সংক্রান্ত যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা আমরা এখনো কেউ বুঝি না। কমানোর পরিবর্তে এখন বেড়ে গেছে। যে পলিসির একটা স্বচ্ছতা নাই এবং পলিসি করার আগে যে এনগেজমেন্ট নাই। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সমস্যা।
শিল্প খাতে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা দূর করতে প্রেডিক্টেবল রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক বা পূর্বানুমানযোগ্য নীতি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন বিনিয়োগকারী যখন মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে জ্বালানি সংযোগের অপেক্ষায় থাকেন, তখন তাকে জ্বালানি সরবরাহ করা সরকারের একটি নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু সঠিক পূর্বাভাসের অভাব ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণে শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যার সার্বিক প্রভাব পড়ছে পুরো অর্থনীতির সরবরাহ শৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন)। এটা প্রেডিকশন না থাকার কারণে হচ্ছে। তাই আমাদের একটি প্রেডিক্টেবল রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক দরকার।
স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ধারাবাহিকভাবে নীতি পরিবর্তনের প্রবণতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, যদি কেউ এলএনজি বা এলপিজি খাতে বিনিয়োগ করতে চায়, তাকে সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী একটি নীতি কাঠামোর নিশ্চয়তা দিতে হবে। রাতারাতি নীতি বদলে গেলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়ে ফেলেন। নীতি যদি স্বচ্ছ ও প্রেডিক্টেবল হয়, তবেই দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে।
নবায়নযোগ্য ও প্রচলিত জ্বালানির যৌথ অবদানের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, শিল্প খাত ও আর্থিক খাতের টেকসই সুরক্ষাই নিশ্চিত করবে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি।
তিনি আরো বলেন, শিল্প কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে তা শুধু শিল্প খাতের ক্ষতি নয়, যে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেখানে হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করেছে, তারাও চরম আর্থিক ঝুঁকিতে পড়বে। তাই যে কোনো উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হতে হবে টেকসই প্রবৃদ্ধি।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ঝুঁকি হ্রাসকরণ (রিস্ক মিটিগেশন) ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আজম জে চৌধুরী বলেন, বাসাবাড়ির হোম সলিউশন কিংবা রুফটপ সোলারের মতো ক্ষুদ্র নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে যারা বিনিয়োগ করছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনা ঘটলে তাদের সুরক্ষায় সরকার বিশেষ ইনস্যুরেন্স বা বিমা পলিসি চালুর চিন্তাভাবনা করতে পারে। রিস্ক মিটিগেশন প্রসেস নিশ্চিত করা গেলে ছোট-বড় সব শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা এ খাতে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত হবেন।










