ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানায় পুলিশ হেফাজতে ট্রাকচালক লিটন প্রামাণিকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বগুড়ার পরিবহন শ্রমিক মালিক নেতরা। লিটনের মরদেহ গতকাল সকালে বগুড়ায় পৌঁছলে শ্রমিকরা ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করেন। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১ ঘণ্টা বগুড়া জেলা শহরের চারমাথা ভবের বাজারের সামনে এ অবরোধ করেন শ্রমিকরা। তারা ট্রাকচালকের মৃত্যু ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।

অবরোধ কর্মসূচি পালন শেষে ৭ আগস্টের মধ্যে দোষীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়ার ঘোষণা দেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতারা।

এ সময় তাত্ক্ষণিক আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা ট্রাকমালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান, জেলা মোটরমালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল হামিদ মিটুল, সাধারণ সম্পাদক শামছুদ্দিন শেখ হেলাল, বগুড়া আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান প্রমুখ।

সমাবেশে আন্তঃজেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন ও ট্রাকমালিক সমিতির নেতারা বলেন, বগুড়ার কাহালু উপজেলার পাল্লাপাড়া গ্রামের সলেমান প্রামাণিকের ছেলে লিটন প্রামাণিক পেশায় একজন ট্রাকচালক। গত ৩০ জুলাই লিটন তার ট্রাকে চট্টগ্রাম থেকে চাল নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াই হাজার উপজেলা সরকারি গুদামের উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে তিনি তার ট্রাকটিকে রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে একটি দোকানে যান। সেখান থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানায় পুলিশের হেফাজতে দেন। ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানায় ৩১ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত আটক থাকা অবস্থায় লিটন মারা যান। পরে প্রচার করা হয় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এটি কখনই আত্মহত্যা হতে পারে না। তাকে নির্যাতন করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করতে হবে। যদি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাহলে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হব।