বরিশাল সদর উপজেলার ইউএনও মুনিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে গতকাল বেলা ১১টায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন ও একই প্রতিষ্ঠানের রাজস্ব কর্মকর্তা বাবুল হালদার বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।

বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মাসুম বিল্লাহ একই দিন বিকালে মামলা দুটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের নাজির কামরুল হাসান। তিনি জানান, বিচারক আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পিবিআইকে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে একই আদালতে ইউএনও মুনিবুর রহমানের ওপর হামলা চেষ্টার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার আওয়ামী লীগের ২১ নেতাকর্মীর জামিনের আবেদন করা হলে বিচারক সে আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারা হেফাজতে রেখে সুচিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দেন।

রফিকুল ইসলাম খোকন ও বাবুল হালদারের করা মামলার আবেদনে ইউএনও মুনিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিসিসির কাজে বাধাদান, বিনা উসকানিতে বিসিসির কর্মচারীদের ওপর গুলিবর্ষণের নির্দেশ প্রদান, হামলা, গুলিবর্ষণের মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির অঙ্গহানি এবং ৩০-৪০ জনকে আহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার আবেদনে ইউএনও মুনিবুর রহমান ছাড়াও কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নুরুল ইসলাম, এসআইসহ ১৮ আগস্ট রাতে তার বাসভবনে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ও আরো ৪০-৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

শেবাচিম হাসপাতালের ১০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরি: বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল থেকে ১০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হলেও সিলিন্ডার উদ্ধার করা যায়নি। সিলিন্ডার গায়েব হওযার বিষয়টি অনেক দিন আগের হলেও এতদিন তা গোপন রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শনিবার সন্ধ্যায় তা ফাঁস হলে শুরু হয় তোলপাড়।

শেবাচিম হাসপাতালের স্টোর সূত্র জানায়, করোনা ইউনিটের ওয়ার্ড মাস্টারদের মাধ্যমে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও সিলিন্ডার মিটার সরবরাহের ব্যবস্থা ছিল। কোন ওয়ার্ডে কতটি এবং কোন রোগীকে সরবরাহ করা হয়েছে তারও তালিকা করা হয়েছে। ওই তালিকা ধরে তল্লাশি করে ১০০ সিলিন্ডার ও ৩০টি সিলিন্ডার মিটারের হদিস মেলেনি। বিষয়টি হাসপাতালের পরিচালককে অবহিত করা হলে তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

এ বিষয়ে হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক ও তদন্ত কমিটির সদস্য সেলিনা আক্তার বলেন, স্টোর থেকে পরিচালককে অবহিত করা হয় সিলিন্ডার ও মিটার পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গত সপ্তাহে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এসএম মনিরুজ্জামানকে প্রধান করে ওই তদন্ত কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।