তুলনামূলক খরচ কম হওয়ায় এবং জমি পতিত না রেখে বাড়তি ফসল হিসেবে আলু চাষ করেছেন দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার কৃষক। চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় চলতি মৌসুমে আগাম জাতের আলু আবাদ শুরু করেছেন এরইমধ্যে। রবি মৌসুমে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৫ হেক্টর জমিতে। যদিও ২৭৯ হেক্টর জমিতে আলুর চাষাবাদ হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি অধিদপ্তর। এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরবরাহ সংকটের অজুহাতে হঠাৎ করেই দেশে অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে আলুর বাজার। দাম নিয়ন্ত্রণে আলুর কেজি ৩৬ টাকা বেঁধে দেয়া হয়। তার পরও ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিকারের জরিমানাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপেও আলুর দাম কমছিল না। ৫০-৬০ টাকায় উঠে যায় প্রতি কেজি আলুর দাম। এতে বিপাকে পড়েন নিম্ন আয়ের মানুষ। বাজার নিয়ন্ত্রণে ৩০ অক্টোবর আলু আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। দেশীয় আলুর পাশাপাশি ২ নভেম্বর থেকে আমদানীকৃত আলু দিয়ে দেশের বাজারে চাহিদা মিটছে।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি রবি মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় আলু চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৫ হেক্টর জমিতে। এরইমধ্যে ২৭৯ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। বাকিটা চলমান রয়েছে। উপজেলার বেশকিছু এলাকায় আগাম জাতের আলু চাষ করছেন কৃষক। যেহেতু চলতি মৌসুমে আলুর দাম ভালো ছিল, এ কারণে কৃষক এবার আগাম জাতের আলু চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কৃষি বিভাগ তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। কৃষক এবার আলুর ভালো ফলন ও দাম পাবেন।’

হিলির চণ্ডিপুর গ্রামের কৃষক পলাশ বসাক বলেন, ‘গত বছর আমি দেড় বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। এবার ছয় বিঘা জমিতে চাষ করেছি। প্রথমত বাজারে আলুর ভালো দাম ও চাহিদা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, আমন ও বোরো আবাদের মাঝে তৃতীয় ফসল হিসেবে আলু ঘরে তুলতে পারব।’