টেক জায়ান্ট গুগল বাংলাদেশে তাদের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, পেমেন্ট সিস্টেম চালু এবং অবকাঠামো তৈরি করতে চায়। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ে জোর দিতে চায় তারা।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ আগ্রহের কথা জানান গুগলের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পলিসি প্রধান কাইল গার্ডনার। গতকাল দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী গুগলের বিভিন্ন সেবা ও প্লাটফর্ম ব্যবহার করে থাকেন। তাই বাংলাদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং স্থানীয় অফিস স্থাপনের জন্য গুগল কর্তৃপক্ষকে বিটিআরসির পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় গুগলের এআই মডেলের ল্যাব স্থাপন, বাংলাদেশী প্রকৌশলীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুগল আলাদা সেবা চালু করবে কিনা, যাতে এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আরো উৎসাহিত করা যায়, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। জবাবে গুগল প্রতিনিধি এসব বিষয়ে তাদের আগ্রহ ও সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো পর্যালোচনার কথা জানান। বাংলাদেশে স্থানীয় অফিস স্থাপনে বর্তমানে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন তিনি।

বিটিআরসির পক্ষ থেকে গুগলের বিভিন্ন প্লাটফর্মে ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত ও অপসারণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাংলাদেশে স্থানীয় পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুগল প্রতিনিধিকে অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে গুগল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে যাতে অপরাধীরা বেটিং বা জুয়ার মতো অবৈধ কোনো আর্থিক কার্যক্রমের প্রচারণা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে আরো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান বিটিআরসি চেয়ারম্যান।

এ লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে এ ধরনের কনটেন্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও অপসারণের জন্য কার্যকর কারিগরি ব্যবস্থা প্রবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় গুগলের সঙ্গে সরকারের বহুমাত্রিক সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে এ দপ্তরের সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর, বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গুগলের কার্যকর সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে বিটিআরসির পক্ষ থেকে পরামর্শ প্রদান করা হয়। কাইল গার্ডনার বিটিআরসি চেয়ারম্যানের এ মতামতকে স্বাগত জানান। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকালে বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহজাদ পারভেজ মহিউদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজ, সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল মো. কামরুল হাসান মামুন এবং একই বিভাগের উপপরিচালক এসএম তাইফুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।