আগামী ২০ জুলাই এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশ্নফাঁস বা কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার ফল। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পূর্তি উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা খাতে সংস্কার, মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়।

ড. এহসানুল হক মিলন বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্থত থাকা বৃত্তি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি সমস্যার সমাধান করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুল বৃত্তি পরীক্ষার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতো না। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান করে বৃত্তি কার্যক্রম সফলভাবে শেষ করা হয়েছে।

সেশনজট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাঠ্যসূচি সম্পন্ন হওয়ার পরপরই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুবিধার্থে এক বছর আগেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

শিক্ষার মান উন্নয়নে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য যে প্রকল্পগুলো চলমান রয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন অব্যাহত আছে। এর অংশ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষককে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্ভাবনী শিক্ষা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে দেশব্যাপী ‘ইনোভেশন আইডিয়া শোকেস’ আয়োজন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠান আগামী ২৮ ও ২৯ জুন অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে ৩২টি সম্মেলন ও প্রদর্শনী কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে এবং এতে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে ড. এহসানুল হক মিলন বলেন, গত ৪ এপ্রিল থেকে সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ছেলে ও মেয়ে উভয় বিভাগের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতা আগামী ২০ জুন জাতীয় স্টেডিয়ামে চূড়ান্ত পর্বের মাধ্যমে শেষ হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি পরে জানানো হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো আনন্দময় ও মানবিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধের চর্চা, শিক্ষার্থীদের পোশাক ও মিড-ডে মিলসহ বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সরকার কাজ করছে।