গাজীপুরের শ্রীপুরের সিংগারদিঘি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান বাড়াতে ও স্কিল গঠনে চালু করা হয়েছিল ফ্রাইডে ফান স্কুল। গত এপ্রিলে প্রতি শুক্রবার নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফ্রাইডে ফান স্কুল যাত্রা শুরু হলেও ১ আগস্ট থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ বিদ্যালয় ছাড়াও আশপাশের বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও অংশ নিচ্ছে ফ্রাইডে ফান স্কুলের শিক্ষাকার্যক্রমে। অনগ্রসর ও দুর্বল শিক্ষার্থীরা এ কাযক্রমে যুক্ত হয়ে নিজেদের দুর্বলতা সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারবে বলে প্রত্যাশা উদ্যোক্তাদের।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শ্রীপুরের সিংগারদিঘি উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে হওয়ায় লেখাপড়ায় নানা প্রতিবন্ধকতায় পড়েছিল বেশ কয়েকবছর ধরে। চলতি বছর বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে ডা. হুজ্জাতুল ইসলাম পলাশ দায়িত্ব নেয়ার পর শিক্ষার মান বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের সবল করার উদ্যোগ নেন। তার উদ্যোগে ইনফোর্সড ফর সোস্যাল রেসপনসেবলিটি ( ইএসআর) সহযোগিতায় গত এপ্রিল থেকে নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফ্রাইডে ফান স্কুলের যাত্র শুরু হয়।
ইংলিশ, গণিত, বিজ্ঞান, হিসাব বিজ্ঞান ও বিজ্ঞান শাখার সহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ক্লাস নেয়া হয়। প্রতি শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পাঠদান করা হয় শিক্ষার্থীদের। শ্রেণীকক্ষেই শিক্ষার্থীদের নানা বিষয়ের সমস্যার সমাধান করা হয়। ক্লাস নেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ মেধাবীরা। শ্রেণী কক্ষের বাইরেও শিক্ষার্থীদের সাধারণ জ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয় শুরুর আগে এক ঘণ্টা ও বিদ্যালয় ছুটির পর এক ঘণ্টা বিশেষ পাঠদান করা হয়। এসব কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ নেয়া হয় না। পুরো ব্যয় বহন করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ডা. হুজ্জাতুল ইসলাম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের রেজিষ্টার। ছুটির দিন হওয়ায় তিনি নিজেও এই বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানের ক্লাস নেন। তিনি বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষাটা একজন শিক্ষার্থীর জীবন পরিবর্তনে কাজ করে। আমরা শিক্ষার্থীদের আগামীর দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলায় জোর দিচ্ছি। যেখানে তারা সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে। এছাড়াও এলাকার অনেক শিক্ষার্থী অনগ্রসর হওয়ায় বিভিন্ন সুযোগ থেকে বঞ্চিত। আমরা ফ্রাইডে ফান স্কুলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ের দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে যাচ্ছি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরুজ্জামান বিএসসি বলেন, আমাদের ফ্রাইডে ফান স্কুলে যে কোনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যোগ দিতে পারে, সবার জন্যই এটি উন্মুক্ত, কোনো টাকা-পয়সাও লাগে না। বিভিন্ন বিষয়ভিক্তিক মেধাবীরা ক্লাস নেয়ায় শিক্ষার্থীরা উপকৃত হচ্ছে।










