দেশে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রতিদিনই বাড়ছে এ দুই রোগে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। বুধবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণহানি হয়েছে আরো পাঁচ শিশুর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল প্রকাশিত পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট ২০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২, ফেব্রুয়ারিতে ২, মে মাসে ১, জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬ ও আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। এছাড়া শুধু সেপ্টেম্বরের ২৪ দিনেই ডেঙ্গুতে ১১২ জন মারা গেছেন।

হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরো জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৫১ জন এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৯৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকাগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৩৭১ জন।

ঢাকার বাইরে অন্যান্য বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বোচ্চ ২৮৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া খুলনা বিভাগে ২৮৬, বরিশালে ১৬৪, রাজশাহীতে ১৩০, ময়মনসিংহে ১০৮, রংপুরে ৭৩ ও সিলেট বিভাগে ১৭ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ১৪৯ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৬৩ হাজার ৮৭৪ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।

এদিকে বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে তিন ও সিলেট বিভাগে দুজন মারা গেছেন। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮১। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্ত হয়েছে ১০০ জনের শরীরে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৯৫১। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৮৩ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এতে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩২। এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৫৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪৪ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।