রাজধানীর পল্লবীতে মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের লেনদেনকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় ল্যাংড়া রুবেল ও তার সহযোগীসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ। আজ বুধবার ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী আজ এ তথ্য জানিয়েছেন।

গ্রেফতাররা হলেন হামিদ খান ওরফে মাখন, ল্যাংড়া রুবেল, তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পা, পারভেজ ও রাব্বী। তাদের কাছ থেকে গোলাগুলিতে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন, এক হাজার পিস ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়।

ডিবি জানায়, গত শুক্রবার বিকালে পল্লবী থানাধীন সেকশন-১১ এলাকায় ইমনের চায়ের দোকানের সামনে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে আলমগীর নামে এক ব্যক্তি পেটে ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়। একই ঘটনায় পথচারী জোসনা নামে এক নারী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আলমগীরের স্ত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে পল্লবী থানায় একটি মামলা করা হয়।

ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে ডিবি মিরপুর বিভাগের একটি দল। একপর্যায়ে ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোলাগুলিতে ব্যবহৃত টয়োটা প্রিমিও গাড়িটি শনাক্ত করা হয়। পরে গাড়িটির মালিক হামিদ খান ওরফে মাখনকে পল্লবী থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হামিদের নামে গাড়িটি নিবন্ধিত হলেও এর প্রকৃত মালিক কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ল্যাংড়া রুবেল। তিনি মাদক সিন্ডিকেটের অন্য সদস্য ও গোলাগুলির ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তথ্য দেন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ল্যাংড়া রুবেলের সহযোগী পারভেজ ও রাব্বীকে পল্লবী থানাধীন কালশী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ল্যাংড়া রুবেলের ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের টয়োটা ভক্সি গাড়ি এবং এর ভেতর থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে গ্রেফতার পারভেজ ও রাব্বীর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপনগর থানাধীন ইস্টার্ন হাউজিংয়ের পাশে বেড়িবাঁধ এলাকায় ডিবি অভিযান পরিচালনা করে ল্যাংড়া রুবেল ও বাপ্পাকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানায়, মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের লেনদেনকে কেন্দ্র করে ল্যাংড়া রুবেলসহ তার সহযোগীরা গোলাগুলির ঘটনাটি ঘটিয়েছে। গ্রেফতার ল্যাংড়া রুবেল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা চেষ্টা মামলার পাশাপাশি অস্ত্র আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।