দেশে প্রথমবারের মতো ১২০ কিলোমিটার গতিতে পদ্মা সেতুর পাথরবিহীন রেলপথ অতিক্রম করেছে যাত্রীবাহী ট্রেন। মাত্র সাড়ে ৩ মিনিটে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের সেতু পাড়ি দেয় দ্রুতগতির ট্রেনটি।

রেলের গতির পর্যবেক্ষণ ও আগামী ১০ অক্টোবর ঢাকা-ভাঙ্গা ৮২ কিলোমিটার রেলপথ উদ্বোধন ঘিরে গতকাল সকাল ৭টা থেকে পদ্মা সেতুতে শুরু হয় দুইদিনব্যাপী দ্রুতগতির ট্রেন চলাচলের পরীক্ষামূলক ট্রায়াল রান। 

প্রথম দিনে, মাওয়া-ভাঙ্গা ৪২ কিলোমিটার রেলপথে পরীক্ষামূলক দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করে চার দফায়। পাঁচিটি বগি নিয়ে ট্রেনটি প্রথমে ছুটে চলে ৬০ কিলোমিটার গতিতে। এ সময় পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ট্রেনটির ভাঙ্গা থেকে মাওয়া পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৫১ মিনিট। এরপর মাওয়া থেকে ইঞ্জিন ঘুরিয়ে ৮০ কিলোমিটার গতিতে ভাঙ্গা পৌঁছায় ৪১ মিনিটে। পরে ভাঙ্গা থেকে আবার ১০০ কিলোমিটার গতিতে মাওয়া পৌঁছায় মাত্র ৩৪ মিনিটে। এরপর অল্প কিছুক্ষণের বিরতি শেষে মাওয়া থেকে ১১টা ১৭ মিনিটে ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন ছুটে চলে ভাঙ্গার উদ্দেশে, পরে ১১টা ৪৭ মিনিটে পৌঁছে যায় ভাঙ্গা স্টেশনে। যাত্রাপথের শেষ ট্রায়াল রানে সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে মাত্র ৩০ মিনিটে ৪২ কিলোমিটার রেলপথ অতিক্রম করে ট্রেনটি।

রেল সংযোগ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গতকাল যাত্রীবাহী ট্রেনের গতি পরীক্ষা সফল হওয়ায় আজ মালবাহী ট্রেনের গতি পর্যবেক্ষণ করার কথা রয়েছে। 

এর আগে চলতি বছরের ৪ এপ্রিল প্রথমবারের মতো সেতুতে চলে পরীক্ষামূলক ট্রেন। এরপর ৭ সেপ্টেম্বর রেলমন্ত্রীর উপস্থিতিতে, ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার রেলপথে পদ্মা সেতু অতিক্রম করে চলে যাত্রীবাহী ট্রেন।