তিনি বলেন, ‘জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার পাশাপাশি বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতের বিকাশ ও উচ্চমানের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেবে সরকার।’

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জেনেরিক থেকে বায়োসিমিলার ও ভ্যাকসিন: বায়ো-ইকোনমির পথে বাংলাদেশের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বায়োটিইডি এ আয়োজন করে। সহযোগী হিসেবে ছিল জেনএক্স।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। এখন এ শিল্পকে বায়োসিমিলার, ভ্যাকসিন ও বায়োটেকনোলজির মতো উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর খাতে নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। এ খাতকে শুধু স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে দেখলে হবে না; জাতীয় অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে বায়ো-ইকোনমির দৃষ্টিভঙ্গিতে এর বিকাশ ঘটাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বায়োফার্মাসিউটিক্যাল ও ভ্যাকসিন গবেষণার প্রয়োজনীয় প্রাথমিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এ রূপান্তরের জন্য প্রায় ১০ হাজার প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল প্রয়োজন হবে। সরকার সাধারণ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক উচ্চমানের কর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে।’

বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতের গবেষণা সক্ষমতা বাড়াতে কনট্র্যাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিআরও) গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বায়োসিমিলার নিয়ে দেশীয় গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।

শিল্পোদ্যোক্তা ও গবেষকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে ‘শেয়ার্ড ফ্যাসিলিটিজ’ বা কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরি সুবিধা তৈরির আশ্বাসও দেন তিনি। তার মতে, উন্নত গবেষণা অবকাঠামো তৈরি করা গেলে একই সুবিধা ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গবেষক কম খরচে উচ্চমানের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

তরুণ গবেষকদের সুযোগ প্রসঙ্গে ড. মুহিত বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের বাজেট থেকে গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, মলিকুলার বায়োলজি ল্যাব স্থাপন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তরুণ গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা তহবিল বাড়ানোর বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’

গোলটেবিল বৈঠকে আইসিডিডিআর,বির প্রধান নির্বাহী ডা. তাহমিদ আহমেদ, বায়োটিইডির প্রধান নির্বাহী সওগাতুল ইসলাম, বিএমআরসির পরিচালক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেননূর, জেনএক্স হেলথের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মুনিয়া আমিন, ইউনিমেড ইউনি হেলথের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দেক হোসাইন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক সোহেল রানাসহ সংশ্লিষ্ট খাতের গবেষক, উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।