মিজানুর রহমান মিনু। রাজশাহীর সাবেক মেয়র ও এমপি। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তিনি। এবারের নির্বাচনেও ধানের শীর্ষ প্রতীকে রাজশাহী-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ। আসন্ন নির্বাচন, নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণের প্রতি অঙ্গীকার ও গণভোট নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফয়সাল আহমেদ

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?

আমি ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে রাজনীতি করছি। রাজশাহীর মাটিতে আমি মানুষ হয়েছি। এখানকার মানুষ আমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসে। আর বিজয় আল্লাহর দান। আমার কাজের মূল্যায়নকারী জনগণ। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আমি এমপি ছিলাম। রাজশাহী সিটি করপোরেশন চালিয়েছি ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত। নগরবাসীর জন্য উন্নত রাস্তাসহ নাগরিক সেবায় আমার যে অবদান, তার মূল্যায়নই নির্ধারণ করবে আমার জয়-পরাজয়।

প্রচারণা কেমন চলছে?

রাজশাহীতে ব্যাপক নির্বাচনী প্রচারণা হচ্ছে। আমরাও করছি। আমাদের প্রতিপক্ষ দলগুলোও করছে। মিটিং, মিছিল, মাইকিং, আলোচনা সভা ও সমাবেশ এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণের মতো কাজের মাধ্যমে দারুণ প্রচারণা হচ্ছে। ভোটের একটা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এবং সবাই মাঠে সুন্দরভাবে আছে। রাজশাহী একটি শান্তির নগরী। ২০০৪ সালে আমি মেয়র থাকাকালে আমরা ‘হ্যাপিয়েস্ট সিটি ইন দ্য ওয়ার্ল্ড’ ক্যাটাগরিতে একটা সম্মাননা পেয়েছিলাম। সুতরাং এখানে প্রচারণা নিয়ে দ্বন্দ্বের কোনো প্রশ্নই আসে না। রাজশাহীতে কেউ কারো প্রতি কোনো হিংসা-বিদ্বেষ কিংবা অশ্লীল ভাষার প্রয়োগ করিনি বা করতেও দেখিনি।

নির্বাচনে প্রতিযোগিতা কেমন হবে বলে মনে করছেন?

জনগণের আস্থাহীনতার কারণে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। তারা মাঠে নেই। সেক্ষেত্রে পুরনো দল হিসেবে জামায়াত এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। বাকি যারা আছে তারা তেমন শক্তপোক্ত না। জামায়াত প্রতিপক্ষ হিসেবে বেশ শক্তিশালী। আর শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলে নির্বাচন ভালো হবে কীভাবে? আমাদের মধ্যে জনগণই বেছে নেবে কে ভালো আর কে মন্দ।

এবারের নির্বাচনী পরিবেশ কেমন দেখছেন?

নির্বাচনী পরিবেশ খুবই ভালো। আমার জীবনে আমি অনেক নির্বাচন দেখেছি। হালকা-পাতলা যেসব ডিবেট হয়, এগুলো টিভি-মিডিয়ায়। কিন্তু মাঠ খুবই ভালো।

গণভোট সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?

জুলাই গণ-আন্দোলনে আমরা স্বাক্ষর করেছিলাম। সেই আন্দোলনে পেছন থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন আমাদের চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তিনিও গণভোটের পক্ষে, সংস্কারের পক্ষে। আমি চাই দেশে গণভোটের মাধ্যমে প্রত্যাশিত সংস্কার হোক। জনগণ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন হোক।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন দেখছেন?

নির্বাচনের আগেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে খুব সুন্দর কাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে তারা চেকপোস্ট বসিয়েছে। তল্লাশি করছে। সেনাবাহিনীর ক্যাম্পও বসেছে। এমনিতেই রাজশাহী শান্ত এলাকা। সেক্ষেত্রে নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

নির্বাচিত হলে রাজশাহীবাসীর জন্য আপনাদের পরিকল্পনা কী?

সম্প্রতি তারেক রহমান রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে বলেই গিয়েছেন, রাজশাহীকে নিয়ে তার কী পরিকল্পনা আছে। আল্লাহ যদি সহায় হন এবং জনগণ যদি আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে, তাহলে আমাদের রাজশাহীর বেকার তরুণদের আইটি বিষয়ে এক্সপার্ট করার জন্য হাইটেক পার্ককে সত্যিকার অর্থে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা হবে। এছাড়া দেশের বেকারদের জন্য পলিটেকনিক, ভোকেশনাল, নার্সিং ইনস্টিটিউট ও কলেজে শিক্ষা দান করে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে তাদের গড়ে তোলার ব্যবস্থা করা হবে। শুধু তাই নয়, শিক্ষিত তরুণদের বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য চাইনিজ, জাপানিজ, কোরিয়ান, অ্যারাবিক, রাশিয়ান ও জার্মান ভাষা শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন কোর্সের মাধ্যমে দক্ষ করা হবে, যাতে বেকাররা দক্ষ জনশক্তিতে রূপ নিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। এছাড়া নগরীতে একটি বিশেষায়িত মেডিকেল কলেজ স্থাপন করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নেরও পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। এছাড়া নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে হাতে-কলমে শিক্ষার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে। আর গরিব-অসহায় বৃদ্ধ নারীদের ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে, যে কার্ড দিয়ে তারা নিজেদের পচ্ছন্দমতো খাবার কিনে মাসে অন্তত দুই বেলা খেয়ে বাঁচতে পারবেন, সেই চেষ্টাও রয়েছে। এছাড়া এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। যেমন আম, টমেটো, আলু, ড্রাগন ফলের মতো ফসল উৎপাদন করে যেন পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় রফতানি করা যায়, সে পরিকল্পনা রয়েছে। এক্ষেত্রে কৃষকদের জন্য উন্নত কৃষিযন্ত্র ব্যবহারকে সহজলভ্য করার ব্যবস্থা করা, সার ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদ্মা বেসিনে ব্যারাজ তৈরি, কৃষকদের সেচ ও বীজ সুবিধা দেয়ার মতো পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের রেশম বোর্ডকে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নেয়া এবং বিদেশে এর পুরনো ঐতিহ্য ও হারানো সুনাম ফিরিয়ে আনার মতো পরিকল্পনা রয়েছে। এসব তখনই সম্ভব যখন জনগণ আমাদের ভালোবেসে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।