করোনাকালে কাজ হারিয়ে বেকার স্বামী। সন্তানদের ক্ষুধা মেটাতে মাথার চুল বিক্রি করা এক মায়ের পাশে দিনাজপুরের হিলি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
উপজেলার বোয়ালদাড় ইউনিয়নের পালিবটতলীর গুচ্ছগ্রামে বেশ কিছু আগে এমন ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে তার বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হাজির হন ইউএনও আব্দুর রাফিউল আলম। পাশাপাশি ওই মাকে একটি সেলাই মেশিন ও দর্জি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তার স্বামীর কর্মসংস্থানের জন্য একটি খাবার ভ্যানও দিয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, ২৫ বছর বয়সী সোনালী বেগমের চার সদস্যের সংসার। ৭ বছর বয়সী ছেলে আর ৪ বছর বয়সী এক মেয়ের মা তিনি। স্বামী সোহাগ মিয়া হোটেলে কাজ করতেন। করোনায় কাজ হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ বেকার। সঞ্চয় যা ছিল খাবার কিনতে তাও শেষ হয়ে গেছে। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে যখন পারছিলেন না তখন মাথার চুল কেটে বিক্রি করে দেন। এলাকায় চুল কিনতে আসা এক ফরিয়ার কাছে ৩০০ টাকায় চুল বিক্রি করেন তিনি। ওই ক্রেতা যখন বুঝতে পারেন, সন্তানদের ক্ষুধা মেটাতে সোনালী চুল বিক্রি করছেন, তখন তিনি তাকে আরো ৫০ টাকা বাড়িয়ে দেন।
সোনালী বেগম বলেন, আজ থেকে আট বছর আগে ভালোবেসে সোহাগকে বিয়ে করেন। এর জন্য তিনি ধর্মান্তরিতও হোন। করোনার কারণে স্বামীর রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অভাবে পড়েন। ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে নিজের বাবার বাড়ি বা স্বজনদের সহযোগিতাও চাইতে পারছিলেন না। তাই বাধ্য হয়ে মাথার চুল বিক্রি করে দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, সেদিন রাতে আমাদের এই অবস্থার কথা শুনে ইউএনও স্যার আমাদের বাড়িতে এসে কয়েক দিনের খাবার দিয়ে গেছেন। পরে তিনি আমাকে একটি সেলাই মেশিন দিয়েছেন। আমাদের সংসার আর সন্তানদের লালন-পালনের জন্য আমার স্বামীকে মালামালসহ একটা ফুচকার দোকানও করে দিয়েছেন।
হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাফিউল আলম বলেন, আজ থেকে প্রায় দেড়মাস আগে উপজেলার পালি বটতলি গুচ্ছগ্রামে এক নারী অভাবে চুল বিক্রি করেছে এমন খবর পেয়ে আমি নিজে তাদের বাড়িতে গিয়ে ওই পরিবারের জন্য কয়েকদিনের খাদ্যসামগ্রী দিয়ে এসেছি। দিন পনেরো আগে তাকে একটি সেলাই মেশিন দেয়া হয়েছে। পরে মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সেলাই প্রশিক্ষণে তাকে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। এরপর তার স্বামীর একটি আবদার ছিল ফুচকার দোকানের। গতকাল সোমবার বিকালে তার স্বামীকে একটা ফুচকার গাড়িসহ সকল সরঞ্জাম কিনে দিয়েছি।









