সিলেটে সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০২ রানে নিউজিল্যান্ডের ৭ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। নৈসর্গিক সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ পঞ্চম ও শেষদিন জয়োৎসব করতে টাইগারদের নিতে হবে আর মাত্র ৩টি উইকেট। ৩৩২ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে কিউইরা ৭ উইকেটে ১১৩ রান নিয়ে চতুর্থ দিন মাঠ ছাড়ে। ড্যারিল মিচেল ৪৪ ও ইস সোধি ৭ রানে অপরাজিত থেকে আজ ফের ব্যাটিংয়ে নামবেন। জিততে তাদের প্রয়োজন আরো ২১৯ রান।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ও সব মিলিয়ে ১৯তম টেস্ট জয়ের ঘ্রাণ পাচ্ছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এর আগে ১৭টি টেস্ট খেলে একটি জয় পায় বাংলাদেশ। গত বছর জানুয়ারিতে মাউন্ট মঙ্গানুইতে সেই ঐতিহাসিক জয়টি তুলে নেয় মুমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন দল। এবার শান্তর নেতৃত্বে আরেকবার কিউইদের বিপক্ষে জয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। এটি হবে ১৩৯ টেস্টে বাংলাদেশের ১৯তম জয়। বড় দলগুলোর মধ্যে শুধু ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই জয় নেই বাংলাদেশের।
স্পিনার তাইজুল ইসলাম একাই ৪ উইকেট নিয়ে কিউইদের বড় ক্ষতিটা করেন। এছাড়া শরিফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান নেন একটি করে উইকেট।
গতকাল সকালে দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ৩৩৮ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। অধিনায়ক শান্ত করেন সর্বোচ্চ ১০৫ রান। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে নেতৃত্বের অভিষেকে সেঞ্চুরি করা শান্ত গতকাল নামের পাশে আর মাত্র ১ রান যোগ করে টিম সাউদির শিকার হয়ে ফেরেন সাজঘরে। ৪৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা মুশফিকুর রহিম থেমেছেন ৬৭ রানে। শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজ ৭৬ বলে ৫০ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে দলকে সম্মানজনক সংগ্রহ এনে দেন।
ধারণা করা হচ্ছিল, সিলেটের ট্র্যাকে কিউইদের আটকাতে ৩৫০ থেকে ৪০০ রানের পুঁজি তো লাগবেই। যদিও বাংলাদেশের ঘূর্ণিতে বেসামাল কিউইদের সামনে ৩৩২ রানের টার্গেটই যেন পাহাড়সম!
প্রথম ওভারেই শরিফুল ইসলামের শিকার হন কিউই ওপেনার টম ল্যাথাম। তিনি উইকেটকিপার নুরুল হাসানকে ক্যাচ দেন। দশম ওভারের শেষ বলে কেন উইলিয়ামসনকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ১৩তম ওভারে মিরাজের ঘূর্ণিতে বিদায় হেনরি নিকোলসের।
৩ উইকেটে ৩৭ রান নিয়ে চা-বিরতিতে যায় নিউজিল্যান্ড। ফেরার পর দ্রুতই ওপেনার ডেভন কনওয়েকে ফেরান তাইজুল। টম ব্লান্ডেলও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তিনি মাত্র ৬ রান করে তাইজুলের শিকার হন।
৩৫তম ওভারে ফিলিপসকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন নাঈম হাসান। রিভিউ নিয়ে সফলতা পায় বাংলাদেশ (৮১/৬)। পেস বোলার কাইল জেমিসনকে নিয়ে দলের সংগ্রহটা একশ পার করান মিচেল। ৪৪তম ওভারে তাইজুলের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন জেমিসন (১০২/৭)।
অষ্টম উইকেটে মিচেলের সঙ্গে যোগ দেন সোধি। এ দুজন ৫.৩ ওভারে ১১ রান যোগ করার পর আলোকস্বল্পতায় চতুর্থ দিনের খেলার সমাপ্তি টানেন আম্পায়াররা। ৬ ওভার আগেই খেলা শেষ হয়, ফলে পঞ্চম দিনে গড়ায় ম্যাচ। যদিও এখন কেবল বৃষ্টিতে বাঁচাতে পারে সফরকারী দলকে।
অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, শ্রীলংকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো বড় দলের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের গৌরব আছে বাংলাদেশের। ৪ উইকেট শিকারি বোলার তাইজুলের মতে, এমন সব জয় যেকোনো দলকে সামনে এগোনোর আত্মবিশ্বাস দেয়।
গতকাল দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বড় দলকে হারানোর মজাই আলাদা। এখনো জিতিনি। তবে আমরা জেতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি বা কালকেও (আজ) করব। একটা বড় দলকে হারালে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস থেকে শুরু করে, একটা দল বদলে যাওয়ার আভাস থাকে।’
ম্যাচটি জিতলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে শুভসূচনা হবে বাংলাদেশের। তাইজুল বলেন, ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ম্যাচ এটা, আমরা চাই পুরো বছর (চক্র) যেন ওই আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারি। কয়টা ম্যাচ জিতব বা জিতব না জানি না, তবে বাংলাদেশকে যেন আমরা ভালো কিছু দিতে পারি।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৩১০ ও ৩৩৮ (শান্ত ১০৫, মুশফিক ৬৭, মিরাজ ৫০; প্যাটেল ৪/১৪৮, সোধি ২/৭৪)। নিউজিল্যান্ড: ৩১৭ ও ১১৩/৭ (মিচেল ৪৪*, সোধি ৭*; তাইজুল ৪/৪০)। —চতুর্থ দিন শেষে










