নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জারি করা গণবিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পক্ষে গত মার্চ মাসের ১৮ তারিখ রিট করা হয়। এরপর মে মাসের ২০ তারিখে আরেকটি আবেদনে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেতে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের আবেদন ও রিভিউ আবেদন খারিজের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিবন্ধন দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) এক শুনানিতে আগামী দুই মাসের মধ্যে এ রিট দুটির শুনানি সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

দলের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম বলেন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য কমপক্ষে ১০০ উপজেলা ও ২২ জেলায় দলের কমিটি থাকতে হবে বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে। অথচ পার্বত্য তিন জেলায় ২০টি উপজেলা রয়েছে, যে কারণে পাহাড়ি জনগোষ্ঠী আগ্রহী হলেও রাজনৈতিক দল নিবন্ধন করতে পারবে না।

তিনি বলেন, স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের সময় ২০১১ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে ওই শর্ত যুক্ত করা হয়। ৫ শতাংশ উপজেলায় এবং ১০ শতাংশ জেলা কমিটি থাকাসহ সর্বমোট ৫ হাজার সদস্য থাকলে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দেয়ার সুপারিশ করেছে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। এ অবস্থায় তড়িঘড়ি করে পুরনো আইনে ওই গণবিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, সংবিধানে রাজনৈতিক দলের যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে, এই গণবিজ্ঞপ্তি সে চেতনার পরিপন্থী, এসব যুক্তিতে রিটটি করা হয়।

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য রাষ্ট্র সংস্কার ইসিতে আবেদন করে, যা ২০২৩ সালের ২৯ মার্চ নামঞ্জুর হয়। এ নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ইসিতে রিভিউ আবেদন করে। এ আবেদন চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি খারিজ হয়। এই দুই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম দ্বিতীয় রিটটি করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বলছে একবার নামঞ্জুর হলে নিবন্ধনের আবেদন পুনঃবিবেচনার সুযোগ আইনে নাই। এটা আইনটির অন্যায্যতা আবারো প্রমাণ করে। তাছাড়া আমাদের মতো নিবন্ধনের আবেদন নামঞ্জুর করে পরবর্তীতে গণ অধিকার পরিষদ ও নাগরিক ঐক্যকে নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। একই যাত্রায় ভিন্ন ফল আইনের শাসন হতে পারে না। আমরা বঞ্চিত হয়েছি। তাই ন্যায্যতার স্বার্থে রিট করেছি। আদালত দুটি রিট আগামী দুই মাসের মধ্যে শুনানি করতে নির্দেশ দিয়েছেন।