পরিবেশবান্ধব নয় বলে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল টু স্ট্রোক ইঞ্জিনচালিত গাড়ি। ২০০৭ সালে নতুন করে ফোর স্ট্রোক সিএনজি ও পেট্রলচালিত অটোরিকশা নীতিমালাও প্রণয়ন করেছে সরকার। এর পরও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর টু স্ট্রোক গাড়ি চলাচল করছে রাঙ্গামাটি শহরে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অবাধে চলা যানবাহনটির কারণে বায়ু ও শব্দদূষণ বাড়ছে। অতিরিক্ত মালপত্র পরিবহনের কারণেও প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) রাঙ্গামাটি কার্যালয়ের তথ্যমতে, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় চলাচলরত নিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশা রয়েছে ১ হাজার ৪১৬টি। অনিবন্ধিত বা নিবন্ধনহীন গাড়িও আছে অনেক। নতুন করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিবন্ধন প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় অনিবন্ধিত অটোরিকশা পাহাড়ি সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এর সঙ্গে আছে পুরনো টু স্ট্রোক গাড়ি। পুলিশের হিসাবে রাঙ্গামাটি শহরে ৭০টির বেশি টু স্ট্রোক গাড়ি রয়েছে।
এ বিষয়ে বিআরটিএ রাঙ্গামাটি কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মো. সালাহ উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী ফোর স্ট্রোক থ্রি হুইলার গাড়ি চলাচল শুরুর পর পুরনো টু স্ট্রোক ইঞ্জিনের পেট্রলচালিত গাড়ি বন্ধ করা হয়েছে। এসব গাড়ি পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলায় নিষিদ্ধ করা হয়। এখন সড়কে যেসব টু স্ট্রোক গাড়ি চলাচল করছে, সেগুলোর অনুমোদন নেই। অবৈধ এসব গাড়ি চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।’
যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ২০০৭ সালের ২৭ মে এক প্রজ্ঞাপনে ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিন বা সিএনজি ও পেট্রলচালিত ফোর স্ট্রোক থ্রি হুইলারের নীতিমালা প্রণয়ন করে। যাত্রীদের আরামদায়ক ও নির্ভরযোগ্য সেবাদানের লক্ষ্যে পুরনো টু স্ট্রোক গাড়ি চলাচলের পরিবর্তে ফোর স্ট্রোক থ্রি হুইলার চালু হয়। বর্তমানে যাত্রীসেবায় পুরনো গাড়ি ব্যবহার বন্ধ হলেও পণ্য পরিবহনসহ বিভিন্ন কাজে তা ব্যবহার করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মূলত রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন হার্ডওয়্যার দোকান, নির্মাণসামগ্রী বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান, এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, বেকারি, মুরগি সরবরাহ, ইলেকট্রনিক শো-রুম, ডিলারশিপ ও খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালপত্র পরিবহনকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে এসব গাড়ি। এর কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণের সঙ্গে যোগ হয়েছে শব্দদূষণও। এছাড়া রাতের বেলায় এসব গাড়ি দিয়ে মালপত্র পরিবহন করা হয়। বেশির ভাগের নেই হেড লাইটসহ অন্যান্য সিগন্যাল সিস্টেম। পেশাদার চালকদের বাইরে বিভিন্ন দোকান, বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাই চালান এসব গাড়ি। তবে টু স্ট্রোক গাড়ি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তাদের দাবি, স্বল্প খরচে গাড়ি ব্যবহার ও যাতায়াত সুবিধার্থে গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাঙ্গামাটি শহরে টু স্ট্রোক গাড়ি চলাচলের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। জেলায় ৭০টির বেশি পুরনো টু স্ট্রোক গাড়ি রয়েছে। রাঙ্গামাটিতে কম মালপত্র পরিবহনে ছোটখাটো ভ্যানগাড়ি না থাকায় এসব টু স্ট্রোক গাড়িতে মালপত্র পরিবহন করা হচ্ছে। কিছুদিন আগেও আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। সপ্তাহ দুয়েক আগে তাদের নেতারা আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলে দেয়া হয়েছে, এক মাসের মধ্যে যেন অন্তত ১৫টি ফোর স্ট্রোক সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে টু স্ট্রোক গাড়ির মতো করে ভ্যান গাড়ি বানানো হয় এবং এক বছরের মধ্যে সব টু স্ট্রোক গাড়ি সরিয়ে ফোর স্ট্রোক গাড়িতে ভ্যান বানানো হয়। পরিবেশবান্ধব নয় বলে টু স্ট্রোক গাড়ি চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।’









