গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্টের (সিইটিপি) সংস্কার ও উন্নয়ন এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম(এসডব্লিউএম) স্থাপন প্রকল্প পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। এবার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে প্রকল্পটি পিপিপি মডেলে বাস্তবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করবে বলে জানা গেছে।
অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি পিপিপি মডেলে বাস্তবায়ন না করার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এতে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) অধীন ‘রেক্টিফিকেশন অ্যান্ড আপগ্রেডেশন অফ সিইটিপি অ্যান্ড এস্টাবলিশমেন্ট অব এসডব্লিউএম অ্যাট বিএসসিআইসি ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ঢাকা আন্ডার পিপিপি মডেল’ প্রকল্পটি পিপিপি মডেলে বাস্তবায়ন না করার জন্য কমিটির অনুমোদন চাওয়া হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে পিপিপি মডেলে বাস্তবায়ন না করার অনুমোদন দিয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পিপিপি মডেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সিইটিপি ব্যবহারের জন্য যে পরিমাণ চার্জ আসবে সেটি দিতে রাজি হচ্ছিলেন না শিল্প নগরীতে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোক্তারা। এ কারণে সরকার পিপিপি মডেলে এটি বাস্তবায়ন থেকে সরে এসেছে। এর পরিবর্তে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করবে। সরকারের পক্ষ থেকে সিইটিপির সংস্কার ও এসডব্লিউএম স্থাপনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছ থেকে সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে ইইউ এর তত্ত্বাবধানে ইতাল প্রগেত্তি নামে একটি প্রতিষ্ঠান সমীক্ষা পরিচালনা করছে। সরকার বর্তমানে নিজস্ব অর্থায়নে বিসিকের মাধ্যমে সিইটিপি চালু রাখার কাজ করছে।
এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের বিসিক, এসএমই, বিটাক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. নুরুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশনের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পিপিপি মডেলে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন থেকে সরে এসেছে। কারণ এতে যে চার্জ আসবে সেটি তাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব হবে না। এ কারণে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করবে। বর্তমানে ইইউ এর সহায়তায় ইউরোপীয় একটি প্রতিষ্ঠান ইতাল প্রগেত্তি সমীক্ষা চালাচ্ছে। সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।










