জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর গ্রামীণ কল্যাণকে পরিশোধ করতে হবে। এর আগে জারি করা রুল খারিজ করে গতকাল বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিম সমন্বয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তবে হাইকোর্টের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবীরা। আদালতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল, ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এ মামলায় যে রায় হয়েছে, হাইকোর্ট সংক্ষিপ্ত রায় দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। রায়ের কপি পেলে আমরা আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল ফাইল করব।’
তিনি আরো জানান, গ্রামীণ কল্যাণের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে ২০২৪ সালের পর থেকে তিনি আর এ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নন। এমনকি গ্রামীণ গ্রুপেরও চেয়ারম্যান নন তিনি।
পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭—এ পাঁচ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট করে ড. ইউনূস প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসহ রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন। রায়ে কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করা হয়। বিলম্ব মার্জনা করে শর্তসাপেক্ষে আইন অনুসারে ৬০ দিনের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে আপিল করার সুযোগ দেয়ার কথাও বলা হয় রায়ে।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে এনবিআর পৃথক লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। পৃথক লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আদেশ দেন আপিল বিভাগ। গ্রামীণ কল্যাণের করা ওই রিটের মূল বিষয়বস্তুর ওপর হাইকোর্টে পুনঃশুনানি করতে নির্দেশ দেয়া হয়। পুনঃশুনানি শেষে একই বছরের ৪ আগস্ট প্রথমে রিট দুটি খারিজ করে এবং পরে তা প্রত্যাহার করে আদেশ দেন হাইকোর্ট।
পরে ওই বছরের ২৯ আগস্ট সেটি প্রত্যাহার করে নেন একই বেঞ্চ। কারণ হিসেবে বলা হয়, দ্বৈত বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক একসময় এসব মামলায় সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যেহেতু তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সুতরাং রায়টি ডিফেক্টিভ (ত্রুটিপূর্ণ) হবে। পাশাপাশি মামলার নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চে পাঠান। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে গতকাল রায় দেয়া হলো।










