কক্সবাজার জেলা ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে গত দুই মাসে বিপুল পরিমাণ চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এর মধ্যে রয়েছে মাদক, অস্ত্র, গরু ও অন্যান্য সামগ্রী।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন বিজিবির উর্মি রেস্ট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান বিজিবি রামুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি জানান, এ দুই মাসে ৮৮ কোটি ৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা মূল্যের মাদক জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা মূল্যের আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের মিয়ানমারের গরু এবং ৬ কোটি ৭২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা মূল্যের অন্যান্য চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৮৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, কক্সবাজার ও বান্দরবানের মিয়ানমার সীমান্ত পাহারায় বিজিবির সদস্যরা সব সময় তৎপর ও সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৫ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে ২৮ লাখ ২০৯ পিস ইয়াবা, ৮১৬ কেজি ক্রিস্টাল মেথ, ১৬৮ ক্যান বিয়ার, ৩৬৫ দশমিক ৭৫ লিটার বাংলা মদ, ২ হাজার ৪২৫ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।

এ ছাড়া ছয়টি দেশি একনলা বন্দুক, একটি দোনলা বন্দুক, একটি বিদেশি রিভলভার, একটি বিদেশি অস্ত্র, একটি গাদা বন্দুক (লং ব্যারেল), তিনটি এলজি গান, একটি ওয়ান শুটার পিস্তল, দু’টি বিদেশি পিস্তল, একটি একে ৪৭ রাইফেল, একটি এসএলআর জব্দ করা হয়।

আরো দু’টি জি-৩ রাইফেল, একটি এমএ-১, একটি এলএম-১৬, ৪টি আর্জেস হ্যান্ড গ্রেনেড, ১১৯টি গুলি, ১৯ রাউন্ড জি-৩ রাইফেলের গুলি, ১৯৯ রাউন্ড জি-৩ গুলি, ১২০ রাউন্ড এমএ-১ গুলি, ১৮৮ রাউন্ড এলএম-১৬ গুলি, ১১টি খালি ম্যাগাজিন, ৬টি খালি খোসা জব্দ করা হয়। এসব চোরাচালান জব্দে ১৪৭টি অপারেশন পরিচালনা করা হয়।

মতবিনিময় সভায় বিজিবির বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কক্সবাজার জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।