সাতক্ষীরা সরকারি শিশু পরিবারে প্রায় দেড় বছর ধরে নির্ধারিত চিকিৎসক নেই। এতে এতিম শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশু পরিবারের জন্য চিকিৎসক চেয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরে একাধিক চিঠি দেয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

সাতক্ষীরা সরকারি শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা শহরের পুরনো সাতক্ষীরা এলাকায় টিনশেডের ১০০ শয্যার (বালক) শিশু পরিবারটি নির্মিত হয় ১৯৭২ সালে। ২০০৫ সালে শিশু পরিবারের পাঁচতলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণ হওয়ার পর থেকে জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় ভুগছে শিশু পরিবারটি। এর মধ্যে চিকিৎসক না থাকায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে শিশুরা। কোনো রকম শারীরিক সমস্যায় পড়লেই গ্রাম্য বা হাতুড়ে ডাক্তার ছাড়া কোনো উপায় নেই এখানে। এছাড়া বড় ধরনের সমস্যা হলে শিশুদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অথচ নিয়ম অনুযায়ী শিশু পরিবারে সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসক থাকার কথা।

সাতক্ষীরা সরকারি শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক আয়েশা খাতুন জানান, অন্তত দেড় বছর যাবত নির্ধারিত চিকিৎসক নেই। চিকিৎসক চেয়ে বহুবার সমাজসেবা অধিদপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্ত আজ পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক দেয়া হয়নি। এতে করে এতিম শিশুদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, শিশুদের শারীরিক সমস্যা হলে স্থানীয় গ্রাম্য ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করা হয়। এছাড়া বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে সাতক্ষীর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় শিশুদের। ফলে অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা। শুধু চিকিৎসা সেবাই নয় জনবল সংকটসহ আরো নানা সমস্যা রয়েছে এ শিশু পরিবারে।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আনিসুর রহিম জানান, সরকারি শিশু পরিবারের এতিম শিশুরা স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্য সব সুযোগ-সুবিধা পাবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এখানে ১০০ শয্যা একটি শিশু পরিবারে প্রায় দেড় বছর কোনো চিকিৎসক নেই। এখন করোনার দুঃসময় চলছে। মানুষ চিকিৎসা সেবায় অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। অথচ সরকারি শিশু পরিবারের এতিম শিশুরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি সাতক্ষীরা শিশু পরিবারে দ্রুত চিকিৎসক দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সন্তোষ কুমার নাথ জানান, শিশু পরিবারের বালক শিশুদের চিকিৎসার জন্য নিয়মিত একজন চিকিৎসক নিয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য আগামী মিটিংয়ে এটি উপস্থাপন করা হবে। চিকিৎসা পুরোপুরি বঞ্চিত হচ্ছে না। হয়তো অভ্যন্তরীণ যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করত শিশুরা সেটি এখন পাচ্ছে না। স্থানীয়ভাবে পল্লী চিকিৎসক দিয়ে তাদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত এর সমাধান হয়ে যাবে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ হুমায়ুন কবির জানান, শিশু পরিবারের এতিম শিশুরা যাতে অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা সেবা পায় সে লক্ষ্যে দ্রুত একজন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে। তাছাড়া এতিম শিশুদের অন্যান্য সুবিধা-অসুবিধার বিষয়ও দেখবেন বলে জানান।

সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি জানান, বিষয়টি তাকে এ পর্যন্ত কেউ অবগত করেনি। তার পরও এতিম শিশুদের চিকিৎসা সেবার বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত যাতে একজন চিকিৎসক দেয়া যায় সে ব্যাপারে সংশ্লিদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।