তিনি বলেন, ‘এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে আগের নিয়মের পাশাপাশি প্রতিটি উত্তরপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে রিভিউ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থী প্রাপ্য নম্বর থেকে বঞ্চিত হলে রিভিউ কমিটির মাধ্যমে তা সংশোধনের ব্যবস্থা করা হবে।’

গতকাল সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনটি উৎসবমুখর না হওয়া এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নে মন্ত্রী কিছুটা কূটনৈতিক উত্তর দিয়েছেন—এমন মন্তব্যের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আপনি বলুন উৎসবমুখর...আমি তো বললাম মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেয়া যায় না, এর চেয়ে কী বলতে পারি, বলেন।’

এবারের পরীক্ষার ফলাফলকে খারাপ বলতে রাজি নন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সুন্দর ফল হয়েছে।’ পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষায় যে নম্বর পেয়েছে, সেটিই দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফল পুনর্নিরীক্ষণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে মূলত উত্তরপত্রে প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কিনা তা দেখা হতো। এবার আইনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর খাতা যথাযথভাবে পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো পরীক্ষার্থী যদি ন্যায্য নম্বর থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে কিংবা নম্বর প্রদানে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকে, তবে রিভিউ কমিটির মাধ্যমে তার সঠিক মূল্যায়ন করা হবে।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘যদি কোনো শিক্ষক মূল্যায়নকালে যথাযথ নম্বর না দিয়ে থাকেন বা অসাবধানতাবশত ত্রুটি হয়ে থাকে, তবে অভিজ্ঞ রিভিউ কমিটির সম্মুখে সেই খাতা পুনরায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে রিভিউ করা হবে। পরীক্ষার্থীকে তার প্রাপ্য নম্বর বুঝিয়ে দেয়া হবে।’

চলতি বছর শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে—এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ফল প্রকাশের পর পরই এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

তিনি নিজের আগের দায়িত্বকালের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘২০০১-০৬ মেয়াদে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার সময় পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। তখন প্রাথমিক পর্যায়ে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা চার-পাঁচ গুণ বেড়েছিল। পরে ধারাবাহিক ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে ওই সংখ্যা কমিয়ে আনা হয় এবং সামগ্রিক পাসের হার ২৮ থেকে ৭৭ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘আজকে মাত্র ফল প্রকাশ হলো। শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে আমরা শিগগিরই পদক্ষেপ নেয়া শুরু করব। আপনাদের সামনে তার ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে।’

ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে, বিশেষ করে উপকূলীয় ও পিছিয়ে পড়া এলাকায় জিপিএ ৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত পার্থক্যের কারণে ফলাফলে এ ধরনের ভিন্নতা তৈরি হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এ ধরনের বৈষম্য রয়েছে।’

তবে শিক্ষার সার্বিক গুণগত মান বাড়ানোর মাধ্যমে এ বৈষম্য কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায় থেকে বিশেষ তদারকি জোরদার করা হচ্ছে।’

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। বিপুল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এর আগে সকাল ১০টায় শিক্ষামন্ত্রী ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আক্তারুজ্জামানসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।