রাজধানীর বনানীতে ১২ তলা সেতু ভবনে সদর দপ্তর রয়েছে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ)। ভবনটির সংস্কার ও উন্নয়নকাজও চলছে। এর মধ্যেই নতুন আরেকটি ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের জমি ব্যবহারের বিষয়ে মতামত জানতে প্রকল্প দপ্তরকে চিঠি দেয়ার কথা জানিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। তবে প্রকল্প পরিচালক বলছেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ধরনের কোনো চিঠি তিনি পাননি।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ২০২৬ সালের মাসিক সমন্বয় সভার কার্যবিবরণী থেকে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়টি জানা গেছে। গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত সভায় সেতু ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে জানানো হয়, ভবনের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নিয়মিত সভা হচ্ছে এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। একই আলোচনায় ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকের কাছে জমি ব্যবহারের উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানোর কথা উল্লেখ করা হয়।
নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা কিংবা সম্ভাব্য ব্যয়, আয়তন ও নির্মাণস্থল সম্পর্কে কার্যবিবরণীতে বিস্তারিত তথ্য নেই। এ বিষয়ে সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম গত বুধবার বণিক বার্তাকে জানান, সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ ধরনের কোনো চিঠি তিনি পাননি। এমন কোনো বিষয় সম্পর্কে অবগত নন বলেও জানান।
২০০৯ সালে উদ্বোধনের পর থেকে বনানীর ১২ তলা সেতু ভবন সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ভবনটি ঘিরে এর আগে বিভিন্ন সমস্যা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ২০২০ সালে ভবনটি বনানী থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছিল। সংস্থাটির অভিযোগ ছিল, যান চলাচলে এটি বাধা সৃষ্টি করছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ভবনটিতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী, ওই সময় ভবনের পার্কিংয়ে থাকা অর্ধশতাধিক গাড়ি, ক্যান্টিন, জেনারেটর কক্ষ, অডিটোরিয়াম ও ডে-কেয়ার সেন্টারে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করা হয়।
এ ঘটনার পর সেতু ভবনের সংস্কার ও নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন কাজ হাতে নেয়া হয়। সেতু কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান কার্যালয় সেতু ভবনের সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে ভবন প্রাঙ্গণে চারতলা মাল্টিপারপাস স্টিল ভবন নির্মাণ, আনসার ব্যারাক, সীমানা প্রাচীর ও প্রবেশদ্বার পুনর্নির্মাণ, ভবনের কাঠামোগত শক্তিবর্ধন (রেট্রোফিটিং), অবকাঠামোগত মেরামত এবং বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া পার্কিং শেড, হাঁটার পথ, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্মাণের কাজ চলমান। অডিটোরিয়ামের শব্দ ব্যবস্থা, ভিডিও ওয়াল প্যানেল, সমন্বয় প্যানেল ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপন এবং আনুষঙ্গিক উন্নয়নকাজও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য যে প্রকল্পের জমি ব্যবহারের বিষয়ে মতামত চাওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেই ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পও সেতু কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০৩০ সালের জুনে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ হয়েছে। প্রকল্পের জমি নতুন সেতু ভবনের জন্য ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সম্মতি বা আনুষ্ঠানিক মতামত পাওয়া যায়নি।
যমুনা বহুমুখী সেতু কর্তৃপক্ষ হিসেবে ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সংস্থাটি পরবর্তী সময়ে কার্যপরিধি সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ নামে পরিচিতি পায়। ২০১৬ সালের বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী, ১ হাজার ৫০০ মিটার বা তার বেশি দৈর্ঘ্যের সেতু, টোল সড়ক, টানেল, ফ্লাইওভার, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সাবওয়ে, কজওয়ে ও রিং রোড নির্মাণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে সংস্থাটি। কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এর অনুমোদিত জনবল ৩৮৬ জন।










