বাগেরহাটে চক্ষু চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগে সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী। গতকাল দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার পাটরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আটক করে তাদের পুলিশে দেয় এলাকাবাসী।

আটককৃতরা হলেন মোড়েলগঞ্জ উপজেলার সোনাডাংগা গ্রামের আজহারুল ইসলামের ছেলে ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উপসহকারী মেডিকেল অফিসার মো. মিজানুর রহমান (৩০), বাগেরহাট সদর উপজেলার কোড়ামারা গ্রামের বাবর আলী মল্লিকের ছেলে জুয়েল মল্লিক ও একই গ্রামের মৃত ইউসুফ আলী শেখের ছেলে মো. মাহফুজুর রহমান (৩৪)। আটক মিজানুর রহমান মোড়েলগঞ্জ ইউনিয়নের বিষখালী কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত আছেন।

আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এশিয়ান ডিজিটাল চক্ষু হাসপাতালের নামে চক্ষু ক্যাম্প করে আসছিলেন। প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা হিসেবে ২৬৫/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী, ধোলাইপাড়, ঢাকা-১২০৪ ব্যবহার করত এ প্রতারকর চক্র। তারা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষদের স্বল্প মূল্যে চক্ষুচিকিৎসা দেয়ার কথা বলে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

পাটরপাড়া গ্রামের শেখ মো. রাসেল ও শেখ রেজাউদ্দিন বলেন, কয়েক দিন ধরে মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে চক্ষুচিকিৎসা ক্যাম্পের প্রচার করে প্রতারক চক্রটি। সকালে তারা পাটরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে একটি ব্যানার টাঙিয়ে চক্ষু ক্যাম্প শুরু করে। রেজিস্ট্রেশনের কথা বলে ৫০০-৬০০ টাকা নেয়া হয়। তাদের কথাবার্তায় সন্দেহজনক মনে হয়। তারা স্থানীয় খানজাহান আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এসএস লিয়াকত হোসেন ননীকে ইনজেকশন পুশ করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে আমরা তাদের আটক করলে তারা প্রতারণার কথা স্বীকার করে টাকা ফেরত দিতে চান। আমরা তাদের পুলিশে সোপর্দ করেছি।

বাগেরহাট মডেল থানার ওসি (তদন্ত) পান্নু মিয়া বলেন, চক্ষু ক্যাম্পের নামে প্রতারণা করছিল একটি চক্র। এলাকাবাসী বিষয়টি বুঝতে পেরে ওদের আটক করে আমাদের খবর দেয়। আমরা তিনজনকে আটক করেছি। আটককৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে।

মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুফতি কামাল হোসেন বলেন, মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি অন্যায় করে থাকেন, তার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।