সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল ও পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। একই সঙ্গে বাংলাদেশী হজযাত্রীদের ওপর আরোপিত কর ও চার্জ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ২০২৭ সালের হজ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানের স্লট অনুমোদনে সৌদি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

গতকাল সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ ইবনে দাফের ইবনে উবাইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে দুই দেশের উড়োজাহাজ চলাচল, হজযাত্রী পরিবহন, এয়ার সার্ভিস এগ্রিমেন্ট ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, ‘‌বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কের ভিত্তিতে বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল খাতে সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে সাপ্তাহিক ফ্লাইট সংখ্যা বাড়াতে সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে।’

আলোচনায় বাংলাদেশী হজযাত্রীদের ওপর আরোপিত কর ও চার্জের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। গত ১৩ জুলাইয়ের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তিতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

২০২৭ সালের হজ ফ্লাইট পরিচালনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে ২৮ মার্চ থেকে ৩০ অক্টোবর ২০২৭ পর্যন্ত প্রতিদিন তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে স্লটের আবেদন করেছে। দুই দেশের এয়ার সার্ভিস এগ্রিমেন্ট নিয়েও অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। মন্ত্রী জানান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) বর্তমানে চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করছে। খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে।

সৌদি এয়ারলাইনস ফ্লাইঅ্যাডিলের অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার অনুরোধের বিষয়েও আলোচনা হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সক্ষমতা ও স্লট ব্যবস্থাপনা সীমিত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ নেই বলে জানান মন্ত্রী। তবে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি দাম্মাম ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

বৈঠকে দুই দেশের বিমান যোগাযোগ ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা আরো সম্প্রসারণে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে। হজ মৌসুম সামনে রেখে সিএএবির প্রস্তুতি সরজমিনে পরিদর্শনে সৌদি জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলী মোহাম্মদ রাজাবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের ঢাকায় আসার আগ্রহের বিষয়েও আলোচনা হয়।