বগুড়ার ধুনট উপজেলায় দীর্ঘ ২৩ বছর পর নিখোঁজ মাকে খুঁজে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা সন্তানরা।
ঢাকা থেকে সোমবার রাতে নেপালফেরত নিখোঁজ মাকে সঙ্গে নিয়ে সন্তানরা ধুনটের মাজবাড়ী গ্রামে ফিরেছেন।
নিখোঁজ আমেনা বেগমকে এক নজর দেখার জন্য গতকাল শত শত মানুষ ভিড় করে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালে অভিমান করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান তিনি।
এর পর থেকেই তার কোনো খোঁজ মেলেনি।
তার সন্তানরাও মাকে এতদিন মৃতই জানতেন।
তাই তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রেও মৃত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সেই নিখোঁজ মা আমেনা বেগম নেপাল থেকে দীর্ঘ ২৩ বছর পর নিজ বাড়িতে ফিরেছেন।
এখন তার বয়স প্রায় ৮০ বছর।
তবে কীভাবে তিনি নেপাল গিয়েছিলেন, তা জানাতে পারেননি।
বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় সোমবার দুপুরে নেপাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন তিনি।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে তার স্বজনদের জিম্মায় দেয়া হয়।
সোমবার রাতেই সন্তানদের সঙ্গে ধুনটের নিজ বাড়িতে ফিরেছেন আমেনা।
আমিনা বেগমের ছেলে ফটিক জানান, ভেবেছিলাম মা মারা গেছেন।
এতদিন পর মাকে পেলাম।
এর চেয়ে খুশির খবর আর কী হতে পারে।
নেপালে বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা সোমবার বেলা
১টায় ঢাকা বিমানবন্দরে নিয়ে আসেন আমার মাকে।
ফেসবুকের সুবাদেই মাকে খুঁজে পেলাম।
বড় ছেলে আমজাদ হোসেনের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, আমার শাশুড়ি মানসিক রোগী ছিলেন।
পাগলের মতো ঘুরে বেড়াতেন।
তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তিও করা হয়েছিল।
ছোট ছেলে ফরাইজুল জানায়, হঠাৎ করেই গত জুনে খবর আসে ‘মা’ বেঁচে আছেন।
নেপালের সানসুরি জেলার ইনারুয়া পৌরসভা এলাকায় তার সন্ধান মেলে।
এরপর ভিডিও কলে মায়ের সঙ্গে কথা হয়।
পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় মাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
মাকে ফিরে পেয়ে মনে হচ্ছে জান্নাতের সুখ পেয়েছি।










