নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ বিষয়টি যদি দেখি, প্রার্থিতার দিক দিয়ে নারীর অবস্থান খুবই হতাশাব্যঞ্জক। কিছু কিছু দলে তো কোনো নারী প্রার্থীই নেই। আর যারা দিয়েছে, তাও শুনেছি ৪ শতাংশের নিচে।
মানে হলো জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলো যতটুকু ঐকমত্য হয়েছিল যে অন্তত ৫ শতাংশ নারী থাকবে, বাস্তবে কিন্তু সেটাও দেয়নি। এতে আমি অবাক হইনি। কারণ এটাই আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। আমরা নারীদের উঠতে দেব না তৃণমূল থেকে। এটা নারীদের জন্য রীতিমতো অপমানজনক বলে আমি মনে করি।
জুলাই সনদে নারী ইস্যুতে অনেক ভালো ভালো কথা হয়তো ছিল। কিন্তু সনদটি প্রণয়নে নারীদের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না। সেটি আমাদের একটা আপত্তির জায়গা ছিল। আমাদের যে পাঁচটা কমিশন—নারী, শ্রম, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার আর গণমাধ্যম। পাঁচটা কমিশনের পক্ষ থেকে আমরা কমিশন প্রধানরা প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি লিখিত চিঠি দিয়েছিলাম যে ঐকমত্য কমিশনে আমরা আমাদের বক্তব্য রাখতে চাই, সেই সুযোগটা যেন দেয়া হয়। কিন্তু সেই চিঠির কোনো উত্তর আমরা কোনোদিন পাইনি। এখানেও আমাদের অভিযোগ আছে।
আমাদের যে রাজনৈতিক দলগুলো, তাদের একটার ভেতরেও গণতান্ত্রিক চর্চা নেই। থাকলে তৃণমূল থেকে নারীর স্বর উঠে আসত জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত। তখন দলের মধ্যেই একটা চাপ তৈরি হতো যে আরো নারীকে মনোনয়ন দিতে হবে। কিন্তু চর্চার জায়গাটা তৈরি হয়নি।
পরবর্তী সরকারের কাছে প্রত্যাশা হলো আমরা আমাদের সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে পরিষ্কারভাবে ১৫টা খাতে কী চাই তা লিখেছি। কোথায় নারী বৈষম্যের শিকার, কোথায় নারী বঞ্চনার শিকার—সব লেখা আছে। সেখানে আমরা নিশ্চয়ই অনেক কিছু আশা করি।
নারীদের আশা কতটা পূরণ হবে, সেটা নির্ভর করবে কে সরকার গঠন করছে তার ওপর।













