দেশের কৃষি খাতে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টন ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার কিনবে সরকার। এতে ব্যয় হবে ২ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। গতকাল অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে আরো বেশকিছু প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ এর কাছ থেকে তৃতীয় লটে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৬২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬৮ দশমিক ১২৫ ডলার।
একই মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবে সৌদি আরবের সার্বিক এগ্রি নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির কাছ থেকে ৪০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ২২৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য ৪৬৩ দশমিক ১৯ ডলার।
এছাড়া ‘ফার্টিগ্লোব-ইউএই’ থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবেও অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ২৬৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য ৪৫৪ ডলার।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের চারটি প্রস্তাবে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিকর্পসের কাছ থেকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে যৌথ চুক্তির আওতায় ষষ্ঠ লটে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৪০৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য ৮৭৭ ডলার। সপ্তম লটে আরো ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানিতে ৪৩৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে। প্রতি টনের দাম ধরা হয়েছে ৮৭৭ ডলার। অষ্টম লটে ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ২৪৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। প্রতি টনের মূল্য ৬৬৭ দশমিক ৬৭ ডলার। নবম লটে ৪০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৩৩০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতি টন সারের দাম ধরা হয়েছে ৬৬৭ দশমিক ৬৭ ডলার।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের দুটি প্রস্তাবে ‘সমাপ্ত চতুর্থ সেক্টর কর্মসূচির অত্যাবশ্যকীয় পরিবার পরিকল্পনা, মা, শিশু ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা অসমাপ্ত কার্যাবলি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় খাবার বড়ি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার বড়ি কিনতে ব্যয় হবে ১৯৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। রেনাটা পিএলসির কাছ থেকে এসব বড়ি কেনা হবে।
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ই-জিপি সিস্টেমের উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রকল্পের কম্পোনেন্টের আওতায় পরামর্শক সেবা ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৪২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। কাজটি পেয়েছে দোহাটেক নিউ মিডিয়া।
সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের একটি প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। এতে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের স্থাপিত আশুগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য দ্বিতীয় সংশোধিত ট্যারিফ কাঠামো অনুযায়ী বিদ্যুৎ ক্রয়ের লক্ষ্যে পুনর্নির্ধারিত লেভেলাইজড ট্যারিফ অনুমোদন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে মূল চুক্তিমূল্য প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ৪ দশমিক ৬৯৭১ সেন্ট বা ৫ দশমিক ৭৬৮০ টাকা।










